Logo
শিরোনাম :

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আল-ইয়াকিন ও আরএসও’র দৌরাত্ম

রিপোর্টার নাম:
আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

উখিয়ায় অবস্থানরত নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ সহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন এ দুটি গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কাছে নিরীহ রোহিঙ্গা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামবাসী কেউ নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ফলে ক্যাম্পে ভিতরে বাইরে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অবনতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে রোহিঙ্গাদের সীমাবদ্ধতায় গন্ডির ভেতরে নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দরা।
কুতুপালং ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম প্রকাশ ডিপো জাফর জানায়, সে ১৯৯২ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমান সময়ে ক্যাম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ প্রসঙ্গে সে জানায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরএসও’র নেতাকর্মীরা সে সময় থেকে ক্যাম্পে অবস্থান করলেও খুন, গুম, অপহরণের মত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। ইদানিং আল-ইয়াকিন নামের একটি সংগঠনের আবির্ভাব হওয়ায় দুটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে সমর্থক নেতাকর্মীদের অপহরণ করে হত্যা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আচরণ করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি আল-ইয়াকিনের ২০/৫০ জন সন্ত্রাসী কুতুপালং ক্যাম্পে হামলা ও বাড়ীঘরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একাধিক রোহিঙ্গাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ পূর্র্বক জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করারমতো ঘটনাও ঘটেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে চাঞ্চল্যকর একের পর এক হত্যাকান্ড ও অপহরণ করে নির্যাতন, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে বিরাজ করছে অজানা আতংক।
বালুখালী ও টিভি টাওয়ার রোহিঙ্গা বস্তিতে সশস্ত্র আল-ইয়াকিনের সদস্য ক্যাম্প ৭ এলাকার উয়ার হামজার ছেলে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ইদ্রিস মাঝি, একই ক্যাম্পের ছৈয়দ আলমের ছেলে আরসার সমন্বয়ক সাহাব উদ্দিন, আব্দুল লতিফের ছেলে ক্যাম্প ভিত্তিক চাঁদা আদায়কারী এনামুল হক, নাসির আহম্মদের ছেলে আবু সুফিয়ান, ইউনুছ এর ছেলে ইসমাঈল মাঝি, নুর মোহাম্মদ ছেলে আয়াছ, গুরা মিয়ার ছেলে তৈয়ব ও মৌলভী আব্দুল লতিফের ছেলে মৌলভী জিয়াউল হকসহ শীর্ষরা অবস্থান করলেও সাধারণ রোহিঙ্গারা ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, রোহিঙ্গারা কারো জন্য নিরাপদ নয়। তারা যেকোন অপরাধ সংগঠিত করতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করে না। তাই এসব রোহিঙ্গাদের যতদ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নয়তো বা যেকোন এক জায়গায় সীমাবদ্ধতার ভিতরে নজরদারিতে রাখা উচিত বলে ওই ইউপি সদস্য তার মতামত ব্যক্ত করেন।
কুতুপালং বস্তিতে আরএসও বা আল-ইয়াকিনের সশস্ত্র সদস্যদের দৌরাত্ম সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, আল-ইয়াকিনের সদস্যরা চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
কুতুপালং বস্তির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর জানান, উখিয়া-টেকনাফে আল-ইয়াকিনের প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক সদস্য রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে অপরাধ প্রবণতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার ফয়সাল আনোয়ার জানান, রোহিঙ্গাদের সীমাবদ্ধতার ভিতরে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রাখা না হলে ভবিষ্যতে স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর