ঘুমধুমে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইট ভাটা

Ukhiya-Pic-05-04-.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজার জেলার উখিয়ার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে বনভূমির পাহাড় সাবাড় করে এক শ্রেণির প্রভাবশালী পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বিহীন ৬টি অবৈধ ইট ভাটা গড়ে তুলেছে। যার ফলে পরিবেশ দূষিত সহ ভারসাম্য হারানোর পাশাপাশি দিন দিন ফসলী জমি হ্রাস পাচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের জন্যও এ ইট ভাটা মারাত্নক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা এ ইট ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত ইট ভাটার বন্ধের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে উক্ত অবৈধ ইট ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের কাঠ কেটে জ্বালানো হয় উক্ত ইট ভাটায়। সম্প্রতি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক অসহায় বিধবা মহিলার দুই ছেলেকে প্রভাবশালীরা উক্ত ইট ভাটার বলি দিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কথিপয় কর্মকর্তা ও উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেনকে অর্থেও বিনিময়ে ম্যানেজ করে বন বিভাগের মাটি ও বনের কাঠ দিয়ে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে ইট ভাটা। ঘুমধুম কচুবনিয়া বড়ুয়া পাড়ায় মোহাম্মদ ইসহাক, আজুখাইয়া পলাশ বড়ুয়া ও আবুল কালাম, আমতলী এলাকায় বখতিয়ার মেম্বার ও কবির সাওদাগর, পাত্রাঝিরি এলাকায় হায়দার একটি সিন্ডিকেট গঠন করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের উক্ত অবৈধ ইট ভাটা গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি উক্ত অবৈধ ইট ভাটায় বলি দিয়েছে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির বিধবা অসহায় মহিলা সোনা মেহেরের দুই ছেলে খাইরুল আমিন (১০) ও ছৈয়দ আমিন (৫)কে। সোনা মেহের অভিযোগ করে প্রতিবেদককে বলেন, ইট ভাটার মালিকরা তার ছেলেদের ইট ভাটায় কাজ করার কথা বলে নিয়ে গিয়ে কুপের মধ্যে পেলে বলি দেয়। আমি পরবর্তীতে ছেলেদের খোঁজ খবর নিতে গেলে তারা আমাকে ছেলেদের বলি দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। সোনা মেহের আরও বলেন, আমি যখন তাদের কাছে আমার ছেলেদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কথা বলে কান্নাকাটি করি তখন তারা আমাকেও বলি দেওয়ার হুমকি দেয়। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি দুই সন্তান হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিনযাপন করছি। এখনো পর্যন্ত তারা আমার কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না। বরং আমাকে এ ব্যাপারে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়ে থাকে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবী করেন, বর্তমান সরকার জন সাধারণের উপকারের জন্য পরিবেশ আইনকে অধিকতর কার্যকর করেছে। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কি কারনে, কেন, কোন উদ্দেশ্যে অনুমতি বিহীন এসব ইট ভাটা তৈরীতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে তা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বন বিভাগের কাজ হলো বন সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উক্ত ইট ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে বন বিভাগের গাছ এবং পাহাড় কেটে মাটি ইট ভাটায় পাচার করছে। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে বন সম্পদ রক্ষা করবে কে ? এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানেন। আমি এমনি বসে আছি। এসব ডিসি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও ইউএনও সাহেব জানেন। এখানে আমার করার কিছু নেই।
এ ব্যাপারে ইট ভাটার মালিক পলাশ বড়–য়া জানান, আমাদের সাথে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আর এখানে ইট ভাটা তৈরি করলে কাগজ পত্র লাগেনা। টাকা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক কাঠ ও মাটি পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

scroll to top