উখিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের ৮ সদস্য হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে

30415040_698629020528078_8876876100005789696_o.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের উখিয়ায় বর্বর সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের ৮ সদস্য মারাতœক আহত হয়ে মৃত্যুর যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বিছানায়। সন্ত্রাসীদের নির্মম ও বেধড়ক হামলায় সিএনজি চালক মোঃ ইলিয়াছ (৫০), স্ত্রী রানু বেগম (৪৫), কলেজ ছাত্রী নুর আক্তার (৩০), ঢাকা ইষ্ট ওয়েষ্টেন মেডিকেল কলেজের ছাত্র আবদুল্লাহ নোমান (২৭), কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী লুৎফুর নাহার সেফা (১৮), উখিয়া টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষক ইয়াকুব মামুন(৩৫), জালাল উদ্দিন (৪০) ও শিশু সাদমান জাহিন মোঃ শামিরসহ পুরো পরিবারের সকল সদস্য মারাতর্œক জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার দিন পরিবারের একমাত্র সদস্য সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে রেহায় পায় এনজিওতে কর্মস্থলে থাকায়। তার নাম কামরুন নাহার মুক্তা। সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালিয়ে হামলা লুটপাট করে স্বর্ণ নগদ টাকা লুঠে নেয় বলেও জানা যায়।
এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে, উখিয়া সদরের নিউ ফরেষ্ট অফিস সম্মূখের পূর্ব পাশের্^। গত ১ এপ্রিল সকাল ৯ টায়। ১৫ -১৬ জনের একদল সন্ত্রাসী, দা, লাঠি, কিরিচ, হন্দা ইত্যাদি অস্ত্রদি নিয়ে পূর্ব – পরিকল্পিত ভাবে সিএনজি চালক মোঃ ইলিয়াছের বসত বাড়ীতে অবৈধ প্রবেশ করে। তারা হঠাৎ গালিগালাজ, ঘেরা বেড়া ভাংচুর, একটি সেমিপাকা নির্মানাধীন বাড়ীর দেওয়াল ভেঙ্গে তান্ডব চালায়। তাদের বাধা দিতে ঘর থেকে পরিবারের সদস্যরা বের হলে তাদের উপর চালায় বর্বর হামলা। এ সময় আহত পরিবারের সদস্যদের কান্নকাটি হৈ চৈ শোনে নিউ ফরেষ্ট অফিসের সম্মূখে প্রধান সড়কে পুলিশের তল্লাশিতে নিয়োজিত থাকা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চেষ্টা করে। ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশের সহযোগিতায় এলাকাবাসী আহতদের উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করলেও আহতদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এ
ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অসহায় পরিবার ন্যায় বিচারের স্বার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দারস্থ হয়ে আশা এবং শান্তনার বাণী পেলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে।
এ ব্যাপারে নির্যাতিত পরিবারের গৃহকর্তা মোঃ ইলিয়াছ সাংবাদিকদের কানঁœায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, তিনি একজন শ্রমিক গাড়ী চালিয়ে পরিবারের ছেলে -মেয়েদের খেয়ে না খেয়ে পড়া লেখা শিখিয়েছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে বন বিভাগের জায়গা আবাদ করে উক্ত বসত ভিটায় বসবাস করে আসছে। ভুমিদস্যু সন্ত্রাসী নজু মিয়ার পরিবার তার বসত ভিটা কেড়ে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। উখিয়া থানার মামলা নং জি আর ৪, তারিখঃ ২/৪/২০১৮ইং। ধারা ১৪৩,৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪,৩২৫,৩২৬,৩০৭,৫৫৪,৩৮০,৪২৭,৫০৬ দঃ বিধি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা হল, মোঃ ইদ্রিস(৩০), নজু মিয়া (৪৯), বাবুল (২৮), মোঃ আলমগীর (২৩), আবছার(২৪), আবদুর রহিম(৪৩), গোলাম মোস্তফা (২২)সহ আরো ১৫/১৬জন সন্ত্রাসীর নাম এজাহারে অজ্ঞাত রেখেছে। তাদের সবার বাড়ী উখিয়া সদরের ঘিলাতলী পাড়া গ্রামে।
এ ঘটনায় অসহায় ইলিয়াছ ও তার ছেলে – মেয়েরা প্রভাবশালী সন্ত্রাসী মহলের অব্যাহত হুমকি ধমকিতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাপাত করছে। ঘটনার রেশ না কাটতে আবারো চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে দিবালোকে তাদের বাড়ীর সামনে এসে হুমকি ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জানে মেরে ফেলে বাড়ী ঘর জবর দখল করার হুমকি দিচ্ছে। থানায় মামলা রুজু হওয়ার পরেও আসামীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় নির্যাতিত পরিবার আতংকে দিনাতিপাত করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, ইলিয়াছের পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের ধরার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং আহত পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ দেখভালও করছে।

Share this post

scroll to top