সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার জামতলী শফি উল্লাহ কাটা ক্যাম্প বাজারের খাস কালেকশনের নামে…থাইংখালীতে সরওয়ারের নেতৃত্বে সরকারি বনভুমিতে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনামানবপাচারকারী জালাল জুতার মালা ও কোদাল দিয়ে মাথার চুল উপড়িয়ে…থাইংখালীতে সরওয়ারের নেতৃত্বে সরকারি বনভুমিতে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনাকক্সবাজারে গণবদলির পর নতুন ওসি-এসআইসহ ৩৭ জনকে পোস্টিংকক্সবাজার থেকে শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১৩৪৭ সদস্য বদলিরোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী জাতীয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট, জড়িত শিক্ষক…নাফ নদীতে গোলাগুলি করে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারউখিয়ায় ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটকউখিয়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার ঘটনার এক বছর

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের জঙ্গি তৎপরতা

Pic-ukhiya-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালীর হাকিম পাড়া, জামতলী ও টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের শুরু হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসওর) প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শতাধিক রোহিঙ্গা জঙ্গি নিয়ন্ত্রন করছে উল্লেখিত শরণার্থী ক্যাম্প। উক্ত ক্যাম্পে কর্মরত কয়েকটি এনজিও সংস্থার নামে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদানের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন। আর অর্থ ব্যয় হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক জঙ্গি তৎপরতার পেছনে।

এব্যাপারে, কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জামাল উদ্দিনের পুত্র রোহিঙ্গা নেতা উসমান জানান, রোহিঙ্গাদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তার কথা বলে এর মধ্যে মধ্যেপ্রাচ্যর বিভিন্ন বিদেশী এনজিও সংস্থার মাধ্যমে ইত্তেহাদুল জমিয়াতুল রোহিঙ্গা, যিবৎবরংঃযব গঁংষরস টসসধয? ঝঞঙচ, করষষরহম জড়যরহমুধ গঁংষরস, রোহিঙ্গা ভয়েস, শরিকা আল হওয়াদী নামে কয়েকটি রোহিঙ্গা সংগঠন কোটি কোটি টাকা পেয়েছে। এ টাকা গোপনে জঙ্গি তৎপরতার কাজে ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইত্তেহাদুল জমিয়াতুল রোহিঙ্গার সভাপতি আমেরিকা প্রবাসী ড. ওয়াকাব উদ্দিন। জঙ্গি নেতা হাফেজ সালাউল ইসলাম তার চেইন অব কমান্ড সামরিক কমান্ডার জঙ্গি নেতা আবু ছালেহ, আবু ছিদ্দিক আরমান, সৌদি প্রবাসী রহিম উল্লাহ, কাতার প্রবাসী শাহ হোসেন, তুর্কি প্রবাসী রশিদ আহম্মদ, মৌলভী মঞ্জুর, ভয়েস সভাপতি আনোয়ার ছিদ্দিক ও মাষ্টার ফখরুল ইসলাম, ঢাকা ওয়ামী অফিসের রোহিঙ্গা ডিপার্টমেন্ট হিসাবে দায়িত্বরত রোহিঙ্গা নেতা ইব্রাহিম বিন আতিকুর রহমান, রোহিঙ্গা ক্যাডার হাবিবুল্লাহ, মৌলভী আয়াছ আরমান বিন সিরাজুল মোস্তফা। তারা কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী হাকিম পাড়া ও জামতলী ক্যাম্পে অবস্থান করে জঙ্গি তৎপরতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বালুখালী ১ এর ১৬ নং ব্লকের শেড মাঝি জামাল উদ্দিনের পুত্র ছৈয়দ হোসেন জানায়, আরএসওর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শতাধিক রোহিঙ্গা জঙ্গি ক্যাম্পে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সহায়তা দিচ্ছে রামু বৌদ্ব পল্লি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী, আরএসওর শীর্ষ নেতা হাফেজ সালাউল ইসলাম ও তার চেইন অব কমান্ড আবু ছালেহ। হাফেজ সালাউল ইসলাম সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ দিন কারাবাসেও ছিলেন। সে জেল থেকে মুক্ত হয়ে ফের জঙ্গি তৎপরতা শুরু করেছে। উল্লেখ্য, সীমান্তের জঙ্গি তৎপরতার কারনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা। জঙ্গি সংগঠন গুলো নানা প্রলোভনে মিয়ানমার থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।

সূত্র জানায় মিয়ানমারের পাঁচটি জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান মুভমেন্ট, আরাকান পিপিলস ফ্রিডম পার্টি, আরাকান রোহিঙ্গা, ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এ আর এনও) এবং হরকাতুল জিহাদ জোটভুক্ত হয়ে সম্প্রতি আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন (এ আর ইউ) নামে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করেছে। সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক জঙ্গিদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে মুসলিম ও সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ নামে আরো কয়েকটি সংস্থা। এসব এনজিও সংস্থার নামে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরনও করা হয় বলে জানা যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মার্মা জানান জঙ্গি তৎপরতা ও নগদ টাকা বিতরনের খবর আমি এখনো পাইনি। যদি এ ধরনের কোন খবর আমার কাছে আসে তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান বলেন, কয়েকদিন আগে কিছু মৌলবাদী জঙ্গিরা ক্যাম্পে প্রবেশ করে রোহিঙ্গাদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরন করে। পরে তাদেরকে পুলিশের মাধ্যমে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছিল। সামনে এ ধরনের জঙ্গি গোষ্টী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৎপরতা চালালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top