সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার ক্যাম্প থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গাদের বিশাল বহররামু সেনানিবাসে ৪ ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করলেন সেনা প্রধানউখিয়ায় একাধিক মামলার আসামি রফিকুল হুদা আটক২ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ৭ নাগরিক আটককক্সবাজার সড়কে বাস ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬নাইজেরিয়ায় ১১০ কৃষকের গলা কেটে বর্বর হত্যাকাণ্ডউখিয়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে অজগর সাপ উদ্ধারউখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও ১৪টি…রোহিঙ্গা সুরক্ষায় নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে মিয়ানমারের দ্বিতীয় প্রতিবেদন

উখিয়া সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত ৩ শতাধিক

MYXJ_20180310140112_save-600x337.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ফের তৎপর হয়ে উঠেছে। এতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে যতসামান্য নামে মাত্র কয়েকটি চালান ধরা পড়লেও সাগর, সড়ক ও আকাশ পথে পচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা।
সম্প্রতি বাংলাদেশে আশ্রীত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, গোয়েন্দাসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা ব্যাস্থ থাকার কারনে প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পথে অপ্রতিরোধ্যভাবে আসছে ইয়াবা। মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কক্সবাজার- টেকনাফ সড়ক ও সমুদ্র লাগোয়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র পথ। আর এ অবৈধ ব্যবসা নেপথ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে উখিয়া ও টেকনাফের ৩ শতাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৫ শতাধিক পাইকারি বিক্রেতা। যারা ইয়াবা গডফাদারদের চালান বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করে থাকে। এসব বিক্রেতা নিয়ন্ত্রণ করছে ২ সহস্্রাধিক খুচরা বিক্রেতাকে। আর এসব মাদক বিক্রেতাদের সাথে গভীর সখ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, কাটা তারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত অঞ্চলের চোরাইপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত কাটা তারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিলে চোরাচালান অনেকটা হ্রাস পাবে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিজিবির ব্যাস্থ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে মরননেশা ইয়াবা। বিজিবির টহল দলকে ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসা কোটি কোটি টাকার ইয়াবা প্রথমে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের রহমতেরবিল, ধামনখালী, বালুখালী, ঘুমধুম, তুমব্রু, জলপাইতলী, বড়ইতলী, করইবনিয়া, হাতিমোড়া, ডেইলপাড়া,পয়েন্টগুলো দিয়ে প্রবেশ করে এবং পরে তা বিভিন্ন পাইকারী বিত্রেুতার হাতে চলে যায়। পাইকারী বিক্রেতাদের কাছ থেকে উখিয়ার ২ সহস্রাধিক খুচরা বিত্রেুতা এসব মাদক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোঁখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্নভাবে ঢাকা,চট্রগাম সহ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রায় প্রতিদিন ইয়াবাসহ মাদক আটক হলেও ২ সহস্রাধিক খুচরা বিক্রেতাদের মাঝে গুটি কয়েক আটক হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন স্থানে অনায়াসে চালান হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার মাদক । আর চিহ্নিত এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার গাড়ী চালকের সখ্য রয়েছে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। মোটর বাইক ছাড়াও ইদানিং অনেক নামিদামী গাড়িতে করেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা। কোনো কোনো গাড়িতে বিভিন্ন এনজিওর সাইনবোর্ড সাঁটানো থাকে। বিভিন্ন এনজিও ষ্টিকার ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় পত্র বানিয়ে অনেকে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কাজে লাগিয়ে একাধিক নামসর্বস্ব এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেবার নামে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যাবসা ও পাচার। একাধিক সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া আগে থেকেই স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, গরীব-অসহায় শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ও তরুনী সংঘবদ্ধভাবে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে খুচরা ইয়াবা বিক্রির টানিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কুতুপালং, বালুখালী, হাকিম পাড়া, তাজনিমারখোলা, জামতলী শরনার্থী ক্যাম্প।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলা কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বহিরাগত ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘওে ক্যাম্প পুলিশের উপস্থিতিতে চলছে শত শত মাদক বেচা-কেনার হাট। এখানে মূলত বিদেশি মদ, হেরোইন ,গাজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বেচা-কেনা হয়। সোনারপাড়া, কোটবাজার ও হ্নীলা থেকে বিকালের পর থেকে সারারাত উল্লেখিত ক্যাম্প এলাকায় কয়েকশ মোটর সাইকেলে আসে উঠতি বয়সের যুবকরা। ১১ টি স্পটে দিনে-রাতে সমানভাবে গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবা ও মদ বিক্রি হয় । এর আশপাশে উপস্থিত থাকে ক্যাম্প পুলিশ। জানা গেছে, এ ক্যাম্পসহ বহিরাগত বস্তির রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি লোক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ মাদক বেচাকেনার মধ্যে বেশিরভাগই নারী। মাদক অধিদফতরের কর্তা এবং ক্যাম্প পুলিশ তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা পায় বলে নির্বি্েঘœই চলে এ ব্যবসা। মাঝে মধ্যে কারও সঙ্গে টাকা লেনদেন নিয়ে ঝামেলা হলেই শুধু তাকে আটক করা হয়। পরে তাদের বেশিরভাগকেই আবার মোটা টাকার বিনিময়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং ক্যাম্পের একজন মাদক ব্যবসায়ী জানান, কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বাংলা মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ কেজি গাঁজা বিক্রি হয়। খুচরা পর্যায়ে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকায় গাঁজার পুরিয়া পাওয়া যায়। ইয়াবার কয়েকটি ক্যাটাগরির মধ্যে এখানে বিক্রি হয় চম্পা। প্রতি পিস ২৫০ টাকা দরে দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হয়। হেরোইন বিক্রি হয় দিনে ৫০ থেকে ১০০ পুরিয়া। প্রতি পুরিয়ার দাম ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। আর এসব মাদকের ক্রেতা হিসেবে উঠতি বয়সের তরুনের সংখ্যাই বেশী বলে উক্ত মাদক বিক্রেতা জানান।

এছাড়াও উক্ত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা হলেন, মিয়ানমার ও বালাদেশ ভিত্তিক ইয়াবা গডফাদার চিকুইন্না, আনোয়ার, মুজিব, থাইংখালীর হামিদুল হকের পুত্র হুমায়ুন কবির প্রকাশ ইয়াবা হুমায়ুন, রহমতেরবিল গ্রামের ছলুর ছেলে আনোয়ার, জামতলী এলাকার দর্জি ইউনুছ, রহমতেরবিল গ্রামের মৃত কাদের বক্সুর ছেলে জয়নাল আবেদীন ভুট্রো প্রকাশ ইয়াবা ভুট্রো, মৃত ফরিদ আলমের ছেলে ইয়াবা সোহেল, রহমতেরবিল এলাকার আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান প্রকাশ ইয়াবা শাহজান, ধামনখালী এলাকার ছৈয়দ আলমের ছেলে কালা মনু, আয়াছ মিস্ত্রির ছেলে কামাল উদ্দিন ও বেলাল উদ্দিন, কলিমুল্লা বলির ছেলে কামাল উদ্দিন, ধামনখালী এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আব্বুইয়া, কালা হাবির ছেলে নজির আহম্মদ, রহমতেরবিল গ্রামের মৃত আশরাফ মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, ধামনখালীর সোলতান আহম্মদের ছেলে আব্দুর রহিম প্রকাশ কালা ভাই,  রহমতেরবিল গ্রামের আনার আলীর ছেলে আবুল মঞ্জুর, ধামনখালী আব্দুল গফুরের ছেলে রফিক উদ্দিন, জামতলী এলাকার মৃত নুর আহম্মদের ছেলে গফুর আলম, ধামনখালী এলাকার মৃত মৌলভী আব্দুস শুক্রুরের ছেলে হেলাল উদ্দিন, রহমতেরবিল এলাকার সোলতান আহম্মদের ছেলে অসংখ্য মামলার আসামী দাড়ী জামাল, বালুখালী এলাকার হাজী আব্দুল মজিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মরিচ্যা বড়বিল এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, মরিচ্যা পাগলীরবিল সড়কের ইয়াবা আলমগীর, টাইপালং গ্রামের দরবেশ আলী সিকদারের ছেলে গিয়াস সিকদার, হিজোলীয়া এলাকার ঠান্ডা মিয়ার ছেলে বাবুল, হিজোলীয়া তেলীপাড়া গ্রামের মোহম্মদের ছেলে বাবুল মিয়া তার ছোট ভাই আবছার, রুহুল্লার ডেবা এলাকার বাছা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, একই এলাকার জানে আলমের ছেলে ইফতেখার, মামুনের ছেলে ফোরকান, মরিচ্যার ইয়াবা মোস্তাক, উখিয়ার রাজাপালং হারেশিয়া খালকাছা পাড়া গ্রামের মোঃ হোছনের ছেলে কবির আহম্মদ প্রকাশ ইয়াবা কবির, উখিয়ার টিএনন্ডি লম্বাঘোনা এলাকার মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে মাহমুদুল করিম খোকা,  টিএনন্ডি  এলাকার বেবীসহ আরো অনেক।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা উখিয়া থানা ও ক্যম্প পুলিশকে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেয়। বড় ব্যবসায়ীরা সাপ্তাহিক ২০০০ টাকা করে দেন। অন্যদিকে ছোট বিক্রেতারা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে দেন। বড় ব্যবসায়ীরা সাপ্তাহিক ছাড়াও পুলিশকে খুশি রাখতে নানা উপলক্ষ্যে বাড়তি টাকা দেন। এরমধ্যে রয়েছে মাদক কিংবা নারী সরবরাহ। ফলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ঝামেলা তেমন একটা হয় না। তবে খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে যারা ফাঁকি দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে টাকা দেয় না, তাদের সুযোগ পেলেই আটক করে পুলিশ। তখন ছাড়াতে গেলে ১ লাখ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের সাংবাদিকদের জানান, প্রায় সময় মাদক আটক করা হচ্ছে। মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। সে যতবড় প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top