থাইংখালী বনভূমিতে তৈরী হচ্ছে বহুতল ভবন!

yy-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বনবিটের সরকারী বনভূমিতে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। প্রভাবশালী বনদস্যুরা প্লট আকারে বনভূমি বিক্রি করলেও বন বিভাগের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় কর্তৃপক্ষের নাগের ডগায় অবৈধ ভাবে বহুতল ভবন তৈরী করায় রীতিমত তোলপাড় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন থাইংখালী বনবিটের অধিনে হাকিম পাড়া এলাকায় মিয়ানমার থেকে এদেশে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা বন বিভাগের কথিপয় কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে সরকারি বন ভুমির শতশত একর পাহাড়ি জায়গা জবরদখল করে ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় দিয়ে নির্মান করে যাচ্ছে আলিশান ভবন। উক্ত সরকারী জায়গায় শত শত অবৈধ স্থাপনা তৈরী যেন সচেতন মহলে হতভাগ বনে গেছে। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, থাইংখালী বন বিটের পার্শ্ববর্তী আরকার সড়কের লাগোয়া সরকারী বন বিভাগের জায়গার উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে বাসাবাড়ি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। হাকিম পাড়া এলাকার মৃত নজু মিয়ার পুত্র ইয়াকুব আলী, মোজাহার মিয়ার পুত্র নুরুল কবির ও ভুমি দস্যু ফরিদ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বন বিভাগের জায়গা জবরদখল করে বহুতল ভবন নিমার্ণ করে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন জনগণ জানান, বন বিভাগকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে সরকারী জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা বা বহুতল ভবন নিমার্ণ করে যাচ্ছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইয়াকুব আলী, ফরিদ ও নুরুল কবির বহুতল ভবনটি সরকারী বন বিভাগের উপর অবৈধ ভাবে নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করেন। সবাই যে ভাবে বন কর্মকর্তাদেরকে টাকা দিয়ে করেছে তাই তিনিও করেছেন এতে সমস্যা কি? অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে বনভূমি জবরদখলকারী ইয়াকুব আলী, ফরিদ ও নুরুল কবির হচ্ছে ভুমিদস্যু চক্রের অন্যতম সিন্ডিকেট। তাদের নেতৃত্বে থাইংখালী এলাকায় বহু বনভূমি জবরদখল করে একের পর এক দালান বা বহুতল ভবন তৈরী করলেও বন বিভাগ তার কাছে অসহায়।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন সরকারী বনভূমি জবর দখল ও অবৈধ স্থাপনা তৈরী যত বড় ক্ষমতা ধর ব্যক্তি হোক না কেন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা গুটিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে বনভূমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে থাইংখালীর বিশাল বনভূমিতে প্রায় ১ হাজারের অধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সরকারী বনভূমি জবর দখল করে এসব স্থাপনা বা বসতবাড়ি তৈরী করেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বনভূমি বেদখলমুক্ত করার জন্য বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নিকট দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন।

Share this post

scroll to top