টেকনাফের সাকেরকে গ্রেপ্তারে বেরিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা পাচারের নানা অজনা কাহিনী

ceab04c4680df1a21be91acd46cdcc28-yaba-tablets-1-640x336-3.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ::

টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবাকারবারী সাকেরকে গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসবে সাগর, সড়ক পথের অস্ত্র ও ইয়াবা পাচারের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার মুন্ডার ডেইল গ্রামের সোলতান আহম্মদের পুত্র ইয়াবা স্বর্গরাজ্যের অন্যতম গডফাদার সাকের প্রকাশ ইয়াবা সাকের হাইকোর্ট থেকে এজাহারে দেয়া ভুয়া নামে জামিন প্রাপ্ত হয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি টেকনাফ বর্ডার গার্ড বিজিবির অভিযানে ইয়াবা সাকেরের কয়েক কোটি টাকার ইয়াবার বৃহত্তর চালান নিয়ে পাচারকারীরা আটক হলেও বিজিবির অভিযান টের পেয়ে ছিটকে পড়ে গ্রেপ্তারের কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে সাকের। শুধু তাই নয়, টেকনাফের বহুল আলোচিত আন্ডার ওয়াল্ড ইয়াবা মাপিয়া নামে খ্যাত ইউনুছের ছোট ভাই সাকের। সাকের ও ইউনুছের বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্র মতে, চতুর সাকেরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামে বেনামে সাজা প্রাপ্তসহ একাধিক মামলা থাকলেও সে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে অল্প দিনে কোর্ট থেকে জামিনে হয়ে আর বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয় না। এসব মামলায় সে কোর্টে হাজিরা না দেওয়ার কারনে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলেও ভুল নাম ঠিকানার কারনে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পাওে না। প্রাপ্ত সূত্র মতে, গত ৭ মাস পূর্বে এই আলোচিত সাকের তার বড় ভাই ইউনুছের প্রায় লক্ষাধিক ইয়াবার বৃহত্তর চালান নিয়ে তার আপন তালত ভাই ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম ফাতে আলী পাড়ার আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুল মজিদসহ শীর্ষরা ইয়াবার চালানটি শ্যামলী গাড়ী যোগে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ড থানা এলাকায় গাড়ীটি পৌছলে সীতাকুন্ড থানার একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাড়ীটি গতিরোত করে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ তালত ভাই ও সাকেরকে আটক করে। রহস্যজনক কারনে উক্ত দুই ইয়াবাকারবারীকে ১ হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে মাদক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাদেরকে চট্রগ্রামস্থ জেল হাজতে প্রেরন করে বলে জানা যায়। যার মামলা নং – ৩০৮/১৭। সিতাকুন্ড থানা মামলা নং- ৪৩। ইয়াবা পাচাওে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত এই অপরাধী ইয়াবা ডন ইউনুছের ছোট সাকের উক্ত মামলায় নিজের নাম ও মাতা – পিতার নাম আতœগোপন করে ছদ্দ নাম ছৈয়দ আলম পিতা কালা মিয়া সাং আলীর ডেইল সাং সাবরাং থানা টেকনাফ, জেলা কক্সবাজার উল্লেখ করেছে। গত ১৮/৪/২০১৮ইং তারিখ হাইকোর্ট থেকে সাকের জামিন প্রাপ্ত হয়ে গত ৩/৪/২০১৮ইং তারিখ উক্ত ভুঁয়া নামে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়। কিন্তু সে জামিনে মুক্ত হয়ে পরবর্তী ধার্য তারিখ গত ১১/৪/২০১৮ইং তারিখ কোর্টে আর হাজিরা দেয়নি।

এদিকে দেশের বহুল আলোচিত সাকের এজাহারে পুলিশকে ভুল তথ্য দিলেও একই মামলার ২নং আসামী আব্দুল মজিদ (২০) পিতা আব্দুল গফুর (পিতার মোবাইল নং- (০১৮৪৬১০৬২৬১), সাং – ফতে আলী পাড়া, সাবরাং, টেকনাফ বর্তমানে একই মামলায় চিটাং জেল হাজতে থাকায় এবং তার নাম ঠিকানা সঠিক থাকায় তার মধ্যে পুলিশ এই কুখ্যাত ইয়াবা সাকেরের সঠিক তথ্য খুজে পাবে। এবং থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মাদক বিরোধী মহলের ধারনা।
এদিকে আব্দুল মজিদের পিতার অভিযোগ, তার ছেলেকে সাকের উরফে ( ভুয়া নাম) ছৈয়দ আলম প্রকাশ ইয়াবা সাকের ও তার ভাই কুখ্যাত ইয়াবা ডন ইউনুছ পরিবারের অৎান্তে ইয়াবা ব্যবসায়ী নামিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনুছ ও সাকের পুরো পরিবার এবং উভয়ের শাশুর ভাড়ীর লোকজন ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয় ভাবে জড়িত। আরো জানা যায় যে, টেকনাফ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, মোবাইল কোর্টমিছ, মামলা – ১৫৩/১৬ইং। মাদকের অপর অন্য একটি মামলায় এই আলোচিত সাকের উরফে ইয়াবা সাকেরকে দুই বছরের কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হলে, প্রায় ৩ মাস হাজত বাসের পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আপিল মামলা – ৪৯/১৭ মূলে গত ২/৫/১৭ইং তারিখ সাপ্তাহিক হাজিরায় জামিন লাভ করেন। কিন্তু জামিন পেয়ে আর হাজিরা দেয় নাই। বর্তমানে উক্ত মামলায়ও সাকেরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এই আলোচিত সাকেরের মেজ ভাই ইউনছ হলো টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট । র‌্যাব – পুলিশের ক্রস ফায়ারে নিহত জাকুর অন্যতম সহযোগী সাকের। জাকু ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার পর কৌশল পরিবর্তন করেছে। প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায় যে, টেকনাফ উপজেলার মুন্ডার ডেইলের সোলতান আহম্মদের মেজ ছেলে ইয়াবা ডন ইউনুছ নিজের বাড়ীতেও ইয়াবা বিক্রির হাট বসিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল ২০১৭ইং টেকনাফ থানা পুলিশ ইউনুছের বাড়ীতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউনুছ দ্রুত পালিয়ে গেলেও তার সহোদর বড় ভাই সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে শুধু মাত্র ১০ হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে সে কক্সবাজার জেল হাজতে রয়েছে। যার মামলা নং- জি আর ৩০৫/১৭ইং তারিখ ১১/৪/২০১৭ইং। এর পর হইতে কিছু দিন আত্নগোপনে থাকলেও ইদানিং আবারো ইউনুছের নড়ে ছড়ে উঠার খবর নিয়ে আতংক্ষিত স্থানীয় সচেতন মহল। এরই সাথে সাকেরও জামিন পেলে দুই ভাই টেকনাফের মুন্ডার ডেইলে বসে পূনরাই টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা নিয়ন্ত্রন করে যাচ্ছে।

এদিকে আরো জানা যায় যে, এই কুখ্যাত ইয়াবা সম্রাট সাকের ইয়াবা মামলায় জামিন পেয়ে হাজত থেকে বের হয়ে কৌশলে আইন জীবির কন্ট্রাক ফিস পরিশোধ না করে পালিয়ে যায়। সাকেরের জামিনের ফিসের টাকা খুজতে মোবাইলে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করিলে এই কুখ্যাত ইয়াবা সাকেরও ইউনুছ উক্ত আইন জীবিকে হত্যা করে লাশ ঘুম করা হবে মর্মে হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উক্ত আইনজীবি হুমকি দাতাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্রে আরো জানা যায়, এক সময়ের দিন মজুর সাকের ও তার মেজ ভাই ইউনুছ মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আজ শূণ্যে থেকে কোটিপতির খাতায় নাম লিখিয়েছেন। উক্ত দুই ভায়ের নামে বর্তমানে ঢাকা, চট্রগ্রাম সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় দিয়ে নামে বেনামে কোটি কোটি অঢল সম্পদ অর্জন করেছে।

এছাড়াও গত ১২/০৭/২০১৭ইং তারিখ টেকনাফ থানা পুলিশ ইউনুছের এক সহযোগি ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করলে এ আলোচিত ইউনুছ তার দলবল নিয়ে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেয় বলেও জানা যায়। উক্ত মামলায় তাকে সহযোগি আসামী দেখানো হলেও সে ছিল মূল আসামী। যার জি আর মামলা নং- ৫৩৪/২০১৭ইং।

এছাড়াও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এই ইয়াবা ডন ইউনুছ একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও মামলার এজাহারে সঠিক নাম ঠিকানা না দেওয়ায় জামিনের পর আর কোন হাজিরা দিতে সংশ্লিষ্ট কোর্টে যায়নি বলে জানা গেছে। এদের পুরো পরিবার গ্রেপ্তার হলেই ভুয়া নাম দিতে অব্যস্ত। অসম্ভব ধৃর্ত ভয়স্কর ইউনুছ ও সাকের ইয়াবার পাশাপাশি অস্ত্র চোরা চালানের সাথেও জড়িত বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এই ইউনুছের অসম্ভব সাহসিকতা ও বুদ্ধি ইয়াবা নিয়ে হঠাৎ কোটিপতি বনে গেছে। স্থল ও সমুদ্র পথে সাকের ও ইউনুছের বিশাল বাহিনী নিয়া উক্ত ইয়াবা ব্যবসা চালায়। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এদের বাড়ীতে ইয়াবার হাট বসিয়ে পাইকারি মূলে ইয়াবা বিক্রি করে। এদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সঠিক নাম ও ছদ্দ নামে ডজনেরও বেশি মাদকের মামলা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে মাদক বিরোধী মহলের ধারনা। এখনি এ কুখ্যাত সাকের ও ইউনুছের ইয়াবা স্বর্গরাজ্যে বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Share this post

scroll to top