উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাকে জবাই করে হত্যা

111-2.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ২ এর রোহিঙ্গা শিবিরের রোহিঙ্গা নেতাকে গলা কেটে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। সোমবার রাত ৯ টায় এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত আরিফুল্লাহ (৪২) মিয়ানমারের মংডু জেলার খোলারবিল গ্রামের মৃত এখলাছ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টার দিকে জঙ্গী রোহিঙ্গা গ্রুপের সদস্যরা তাকে পরিকল্পিত ভাবে একটি সিএনজি গাড়ী থেকে নামিয়ে রাস্তার উপর প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। যা নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে নতুন করে উগ্রপহ্নিদের উত্তান নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে। বালুখালী ২ নং ক্যাম্পের হেড মাঝি আবু তাহের জানান, নিহত রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ রহস্যময় রোহিঙ্গা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাকে রোহিঙ্গা জঙ্গী গোষ্ঠিরা আরো বেশ কয়েকবার হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানরত বেশ কিছু রোহিঙ্গা জানান, তিনি রাখাইনের মূলত রোহিঙ্গাদের জঙ্গী গ্রুপ হিসাবে পরিচিত আল ইয়াকিন তথা আরকান রোহিঙ্গা সলভেনশন আর্মি (আরসার) বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদেশীদের কাছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বানিজ্য, ক্যাম্পে নারী কেলেংকারী, বিচারের নামে বানিজ্য এবং আল ইয়াকিন তথা আরাকান রোহিঙ্গা সলভেনশন আর্মি (আরসার) বিভিন্ন তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিদেশীদের কাছে পাচারের সন্দেহ করা হতো। এ কারনে নিহত আরিফুল্লাহ রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানকারী রাখাইনের জঙ্গী গ্রুপ হিসাবে পরিচিত আল ইয়াকিনের হুমকির মূখে ছিল। এর আগেও ১৯ জানুয়ারী তার উপর রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ হামলা করেছিল। এসময় তিনি বেঁেচ গেলেও তার ছোট ভাই মহিবুল্লাহ ছুরিকাঘাত হয়। আরিফুল্লাহ দীর্ঘ দিন ধরে আল ইয়াকিন গ্রুপের টার্গেট ছিল। কিন্তু তাকে হত্যার চেষ্ট করে কয়েকবার ব্যর্থ হলেও এবার তারা সফল হয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহর বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী তিনি জানান, আরিফুল্লাহ ছিলেন মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষিত রোহিঙ্গা। তিনি ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী থাকার কারনে বিদেশীদের সাথেও তার ভাল সম্পর্ক ছিল। ইউএনও আরো জানান, আরিফুল্লাহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে লোকজনদের যতেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। এমনকি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সদস্যদের ত্রান বিতরনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তার সহযোগিতা বেশ ভাল ছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান যখন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন তখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাই লাউ মার্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ হত্যার বিবরণ দিয়ে জানান, প্রতিপক্ষের হত্যার হুমকির কারনে বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে রাত যাপন করতেন না। প্রতিদিন সন্ধায় তিনি শিবির থেকে বাহিরে অন্যত্রে বসবাস করতেন। সোমবারও প্রতিদিনের ন্যায় তিনি শিবির থেকে একটি সিএনজি নিয়ে বের হচ্ছিলেন। শিবিরের বাহিরে রাস্তার উপরে পৌছলেই অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা জঙ্গীরা গাড়ীটি গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে রাস্তার উপর জবাই করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে অস্ত্রধারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহকে নিয়ে আমরা টেনশনে ছিলাম। তিনি অনেক আগে থেকেই হত্যার মূখে ছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারী রাতেও আরো একদফা হমলা হয়েছিল তার উপর। সেই সময়কালে কয়েকজন উগ্রুবাদী রোহিঙ্গা সদস্যরা আটকও হয়েছিল। ওসি আরো বলেন, বাস্তবে আরিফুল্লাহ উচ্চ শিক্ষিত রোহিঙ্গা হওয়ায় তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে কিছুটা রহস্যজনক ভুমিকার কারনে আলোচিতÑ সমালোচিত ছিলেন। তাকে কারা হত্যার চেষ্ট করছে এসব বিষয়ে বার বার জানার চেষ্টা করেও তিনি পরিস্কার ধারণাও পুলিশকে দিতেন না। তবে ওসি একথাও স্বীকার করেন যে, নিহত রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহর সঙ্গে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গ্রুপ ছিল।

Share this post

scroll to top