সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার ক্যাম্প থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গাদের বিশাল বহররামু সেনানিবাসে ৪ ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করলেন সেনা প্রধানউখিয়ায় একাধিক মামলার আসামি রফিকুল হুদা আটক২ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ৭ নাগরিক আটককক্সবাজার সড়কে বাস ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬নাইজেরিয়ায় ১১০ কৃষকের গলা কেটে বর্বর হত্যাকাণ্ডউখিয়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে অজগর সাপ উদ্ধারউখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও ১৪টি…রোহিঙ্গা সুরক্ষায় নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে মিয়ানমারের দ্বিতীয় প্রতিবেদন

শূন্য রেখার রোহিঙ্গারা চরম আতংকে

11-8.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রত্যাবাসনের কথা বলে থামাসা শুরু করেছে। একদিকে পতাকা বৈঠক অন্য দিকে গুলি করে রোহিঙ্গাদের আতংক সৃষ্টি করছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোনার পাড়া শূন্য রেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্ধেগ উৎকন্ঠা ও আতংক বিরাজ করছে ।
২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যরা নির্বিচারে গুলি হত্যা ধর্ষন গ্রেপ্তার করে মানুষ হত্যা করায়। এর সূত্র ধরে ৭ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ওইসব রোহিঙ্গাদেরকে উখিয়া – টেকনাফে আশ্রয়দে। মিয়ানমার বিজিপি বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির সাথে পতাকা বৈঠকে বিজিবিকে জানিয়েছে শূন্য রেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমারে। আর ওই দিন পতাকা বৈঠক চলাকালীন সময়ে মিয়ানমার বিজিপি শূন্য রেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শিশু আনসার উল্লাহ(১০)কে গুলি করে। সে বর্তমানে বালুখালী রেডক্রিসেন্ট ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যার ফলে ওই শূন্য রেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা এদিকে আসতে পারছেনা ওদিকেও যেতে পারছেনা। এ নিয়ে চরম আতংকে ভোগছে রোহিঙ্গারা। ২৫ আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে শূন্য রেখায় আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গা। তাদেরকে ত্রান সামগ্রী দেওয়া হলেও মিয়ানমারের অত্যাচারের কথা এখনো ভুলতে পারছেনা। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের তালিকা দিলেও তা যাচাই – বাছাই করতে ৬ মাস সময় লাগবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। শূন্য রেখার রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, তারা নাগরিকত্বসহ চলাচলের সুযোগ সুবিধা না পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেনা। মিয়ানমার বলছে তারা সব কিছুতে রাজি। কিন্তু রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে পারবেনা। যার ফলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে থামাসায় নেমেছে মিয়ানমার। তারা তাদের দেওয়া কথা বলেলও তা রাখতে পারে না।
২০০৫ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়ে গেলে ৯১ সালের শেষের দিকে আসা নয়াপাড়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে ৩০ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা রয়েগেছে। এছাড়াও মিয়ানমার সামরিক সরকারের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের ভয়ে এর আগে আরো ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এ নিয়ে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কবে মিয়ানমারে ফিরে যাবে তাও রোহিঙ্গারা জানেনা বলে কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ৯১ সালের শেষের দিকে আসা রোহিঙ্গারা যেখানে এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছে সে খানে মিয়ানমার যে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ফিরে নেবে তা বলা মসকিল। বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা আবু তাহের জানান, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরে নেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপন করছে। তাদের ফেলে আসা বসত বাড়ীতে মগদের ঘর বাড়ী তৈরি করে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত গেলে কোন দিন তাদের বসত বাড়ী ফিরিয়ে পাওয়ার সম্ভবনা নেই। তাই রোহিঙ্গাদের মৃত্যুটা মিয়ানমার মগদের হাতে না হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করাটাই ভাল মনে করছি।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানান, বৃহস্পতিবারে শূন্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুকে মিয়ানমারের বিজিপি গুলি করে আহত করলেও বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Share this post

scroll to top