উখিয়ার ছেপটখালী খালের ভাঙ্গনে বিলীন ঘরবাড়ী ফসলী জমি

pic-ukhiya-1-9.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ার উপক’লীয় এলাকার ছেপটখালী সিকদার পাড়া খালের অব্যাহত ভাঙ্গনের শতাধিক বসতবাড়ী ও ফসলী জমি ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়া যাওয়ায় হুমকির মূখে পড়েছে আরো বেশ কয়েকটি পাকা ঘরবাড়ী ও বসত ভিটা। উক্ত খালের উপর নির্মিত একটি কানেক্টিন ব্রীজ পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে খালের উত্তর পাশে অবস্থিত গুচ্ছ গ্রামের আড়াই শতাধিক ছাত্র -ছাত্রী স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন করে ভাঙ্গন কবলিত অংশে ঘরবাড়ী রক্ষার্থে খালের গতিপদ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আস্বস্ত করেছেন।
সরজমিন ঘটনাস্থল ছেপটখালী সিকদার পাড়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মনখালীর উপর দিয়ে বয়ে আসা খরশ্রোতা ছেপটখালী খালটি সিকদার পাড়া এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পশ্চিম দিকে বঙ্গোপ সাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। আরেকটি অংশ উত্তর দিকে বেশ কিছু দুর গিয়ে সেটিও সাগরে পড়েছে। যে কারনে এখালে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয়ে আসছে। সিকদার পাড়া খালের পাড়ে ঝুকির মূখে বসবাসরত শফু সিকদার অভিযোগ করে জানান, ছেপটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেন্টার কানেক্টিন সড়কের উপর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ব্রীজের স্থলে একটি বাঁধ নির্মান করা হলে ছেপটখালী খালের ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো শতশত একর ফসলী জমি ও বসতবাড়ী। সে জানান, আর ১০/১২ ফুট মাটি সরে গেলে তার বসতবাড়ীটি খালের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে।
একই স্থানে হুমকির মূখে প্রতিয়মান উপক’লীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার মোকতার আহম্মদ জানান, তার পাকা বসতবাড়ী খানাও ভাঙ্গনের মূখে পড়েছে। ভারী বর্ষন ও জোওয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোন সময়ে শতাধিক ঘরবাড়ী বসত ভিটা অস্তিত্ব হারাতে পারে। ছেপটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিন সরওয়ার জানান, উক্ত খালের কারনে গুচ্ছ গ্রাম এলাকার প্রায় আড়াই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারছেনা। গত বর্ষা মৌসুমে খাল পার হয়ে ঝুকি নিয়ে স্কুলে আসার সময় তার স্কুলের একজন ছাত্র পানিতে ডুবে মারা গেছে দাবী করে তিনি অবিলম্বে উক্ত খালের গতিপদ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, এখালটির গতিপদ স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া না হলে এলাকার ফসলী জমি বসতভিটাসহ নানা প্রকার স্থাপনা খালের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা গুরে দেখেছেন এবং খালের গতিপদ বন্ধ করে ভাঙ্গন ঝুকিতে থাকা বাড়ীঘর বসতবাড়ী ও ফসলী জমি রক্ষায় সিকদার পাড়া এলাকার খালের উপর বালির বস্তা, খুটি ও ড্রামসিট দিয়ে বাঁধ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

Share this post

scroll to top