কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক এখন মৃত্যুপূরী

pic-a-3.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখানে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক এখন মৃত্যুপূরীতে পরিনত হয়েছে। ৩০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত প্রায় দেড়শতাধিক এনজিও সংস্থা কাজ করছে। এসব এনিজও কর্মকর্তাদের ব্যবহ্নত যানবাহন ছাড়াও রোহিঙ্গাদের দেখতে আসা দেশী বিদেশী অসংখ্য ভিআইপির গাড়ীসহ যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে স্থানীয় যানবাহন। গাড়ীর সংখ্যা মাত্রাতিরক্ত বাড়লেও বাড়েনি সড়কের মান। উপরন্ত সড়কের উপর অসংখ্য হাটবাজার গড়ে উঠেছে। যে কারনে এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যমতে, এমাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১২ জন। এসময় আহত হয়েছে প্রায় হাজারেরও অধিক। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরধার না করার কারনে মৃত্যুও মিছিল দীর্ঘায়ীত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে ৪ টি সরকারি বি আর টিসির গাড়ী বরাদ্ধের পাশাপাশি এ সড়কে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। সভায় উপস্থিত উখিয়া টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আব্দুর রহমান বদি এ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ বলেন, কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক অবৈধ হাটবাজার গড়ে উঠার কারনে এসড়কটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ছেপটখালী হয়ে উখিয়া এন আই সড়কের সাথে সংযোগ সড়ক নির্মান করতে হবে। তাছাড়া সড়কের আশে পাশে এবং সড়কের উপর যে সমস্ত অবৈধ হাটবাজার গড়ে উঠেছে সে গুলো উচ্ছেদ করে যানবাহন চলাচল সচল করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারন সম্পাদক পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক বৈধ যানবাহনের চাইতে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে গেছে। এসব অবৈধ যানবাহন থেকে একটি সরকারি মহল মাষিক মাষোহারা আদায় করছে। যে কারনে তারাও সড়কে বেপরোয়া চলাচল করলেও দেখার কেউ নেই। অদক্ষ অযোগ্য টমটম চালকদের কারনে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্কুলের ছাত্র- ছাত্রীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যেতে পারছেনা।
উখিয়া জীপ মাইক্রো হাইস মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্রো অভিযোগ করে জানান, ছোট্র পরিসরে নির্মিত কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করার কারনে সড়কের বেশির ভাগ অংশে খানা খন্দক ও বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। এসব কারনে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রসংঙ্গে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়া জানান, সড়কের খানা খন্দ গুলো সংস্কার করা হচ্ছে। তবে সড়কের উপর অবৈধ হাটবাজার ও দোকানপাট গড়ে উঠার ফলে সড়কটি আরো সংকোচিত হয়ে পড়েছে। যে কারনে চালকেরা শত চেষ্টা করেও গাড়ী নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছেনা। এতে দুর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ বাবু রনজিত কুমার বড়–য়া জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় এমাসে ৫ জন মারা গেছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, যানবাহন নিয়ন্ত্রনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। তথাপিও এমাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ ব্যাক্তির অপমৃত্যু হয়েছে।

Share this post

scroll to top