উখিয়ায় লাগাতার বর্ষনে চিংড়ীঘেরসহ ৩০টি গ্রাম প্লাবিত

pic-a-7.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

গত কয়েক দিনের লাগাতার ভারী বর্ষনে প্রায় ৩টি স্থানে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাহাড়ী ঢল ও নাফ নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে পালংখালীর এক হাজার একর চিংড়ীঘের তলিয়ে গেছে। পাহাড় কাটা মাটিতে খাল জলাশয় ভরাটসহ অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে উঠার কারনে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হওযায় প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় হাজারেরো অধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে।
সরজমিন কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের থাইংখালী, কাটির মাথা ও পানের ছড়া এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বুধবার সকাল থেকে। ফলে দুরপাল্লার যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে ছোটখাট যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। পথে পথে যাত্রীদের গাড়ী পাল্টিয়ে অথবা পায়ে হেটে গন্তব্য স্থানে পৌছতে হচ্ছে বলে একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন। সিএনজিও টমটম পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মোকতার আহম্মদ জানান, দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার কারনে ছোটখাট যানবাহন গুলো যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমারখোলা, রহমতেরবিল, আঞ্জুমান পাড়া, জামতলী, থাইংখালী, ফারিরবিল, বালুখালী, রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি, হাজিরপাড়া দোছড়ি, তুতুরবিল, পুকুরিয়া, হরিণমারা, রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া তুলাতলি, থিমছড়ি, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, ক্লাসে পাড়া, হিন্দু পাড়া, জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি, লম্বরিপাড়া, পাইন্যাশিয়াসহ প্রায় ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজারেরো অধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। পালংখালী মৎস্যচাষ উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিমুল্লাহ ও চিংড়ীচাষী আলতাজ আহম্মদ জানান, পালংখালী থেকে বালুখালী পর্যন্ত প্রায় এক হাজার একর চিংড়ীঘের প্লাবিত হয়ে নাফ নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ২০ কোটি টাকার চিংড়ীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, এনজিওরা নির্বিচারে পাহাড় কর্তন করেছে। এসব পাহাড়ের মাটি বালি ছড়া খালে পতিত হয়ে নাব্যতা হ্নাস পেয়েছে। যে কারনে বৃষ্টির পানি চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি হয়ে পুরা ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। সে জানান, তার ইউনিয়নে অসংখ্য কাচাঘরবাড়ী গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার কারনে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক পরিবার।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পালংখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে ফসলী জমি প্লাবিত হওয়ায় আমান চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। আগাম দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তৎপর থাকার পাশাপাশি উপক’লীয় এলাকায় বসবাসরত জনসাধারন যাতে তাৎক্ষনিক ভাবে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য সাইক্লোনসেন্টার গুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Share this post

scroll to top