পাহাড় ধ্বসের আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা

pic-ukhiya.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ার ছোট বড় ২০টি ক্যাম্পে আশ্রীত প্রায় ৭লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা পরিবার পরিজন নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুকিতে বসবাস করছে ১১ মাস ধরে। এসব পরিবারদের ঝুকিমুক্ত করতে প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও তা যতাযত সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে জবুথবু হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ক্যাম্পের অলি গলি দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পাহাড় ধ্বসের আতংক নিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউএনও বলছেন এ পর্যন্তও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তেমন কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
২৫ আগষ্টের পর থেকে উখিয়ায় আশ্রীত ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রায় ৫ হাজার একর বন ভুমি ছোট বড় পাহাড় টিলা কর্তন করে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসন বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত স্থান থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিশ্চিত করে। বাদ বাকি রোহিঙ্গাদেরকেও একটি সুনির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করলেও তা যথাযত সময়ে কার্যক্ষর হয়নি। কালক্ষেপনের ফলে বর্ষা শুরু হয়। এমতাবস্থায় ওইসব ঝুকিপূর্ণ পরিবার গুলো অনন্যপায় হয়ে স্ব স্ব অবস্থানে দিন যাপন করছে। বৃহস্পতিবার সকালে বালুখালী ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পের বিভিন্ন অলি গলি দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে পাহাড়ে ফাঁটল ধরেছে বলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়ুব মাঝি জানান, ক্যাম্পে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে পাহাড় ধ্বসের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসময় পাহাড়ের খাদে বসবাসরত মাবিয়া খাতুন (৪৫) জানান, তার আশ্রয় নেওয়ার আর কোন জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে পাহাড় ধ্বসের আতংক নিয়ে রাত যাপন করতে হচ্ছে। পাশেই আরেক বয়োবৃদ্ধ মহিলা নছিমা খাতুন (৫৫) জানায়, ভারী বর্ষনের কারনে ঘর থেকে বের হতে পারছিনা। চলাচলের পথের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ মূহর্তে ঘরছেড়ে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই আল্লাহ আল্লাহ করে এখানেই থাকতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা নেতা আবু তাহের জানান, ভারী বর্ষন অব্যাহত থাকলে ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবেনা। এ ভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুকিপূর্ণ এলাকা গুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আহাজারি অভিযোগ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি শোনা গেছে।
রোহিঙ্গা নেতা ডাঃ জাফর আলম জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে ক্যাম্পে কাদাপানিতে একাকার হয়ে পড়ার কারনে ও রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা গৃহবন্ধি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, গত ৩ দিনে বালুখালীসহ আশে পাশের ক্যাম্প গুলোতে পাহাড় ধ্বসে শতাধিক বসতবাড়ী বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান জানান, তিনি কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। প্রাকৃতিক ঝুকি মোকাবেলায় এনজিওদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম জানান, ইতিমধ্যে ৩৫ হাজার ঝুকিপূর্ণ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যান্য রোহিঙ্গাদেরও ঝুকিমুক্ত করা হবে।

Share this post

scroll to top