দখল দুষনের কবলে উখিয়ার খাল নদী ছড়া

pic-ukhiya-1-11.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ার ৫টি ইউনিয়ন ৪৫ ওয়ার্ডের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল নদী, ছড়া গুলো প্রভাবশালীদের দখল দুষনের কবলে পড়ে বিপযস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। মারাত্নক পরিবেশ দুষনের কারনে প্রতি বর্ষায় গ্রামের পর গ্রাম চলাচলের রাস্তা, ফসলী জমি,বসতভিঠা প্লাবিত হওয়ায় এর দায়ভার বহন করতে সহায় সম্বলহীন পরিবারদের। সীমান্তের বেড়িবাধঁটি দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই নির্মান কাজের দাবী ছিল স্থানীয় বৃহত্তর জনসাধারনের। তাও বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাড়ে ৯শ একর চিংড়ী প্রজেক্ট অরক্ষিত অবস্থায় প্রতিয়মান। সীমান্তের পাহাড়ী ঢল ও নাফ নদীর জোওয়ারের পানি একাকার হয়ে বছর বছর পালংখালী ইউনিয়নের দুই তৃতীয়ংশ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য স্থানীয় গ্রামবাসী খাল খনন ও খাল দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরজমিন, পালংখালী খাল ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও সুশিল সমাজের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালের উপর দোকান পাট, ক্লাবঘর, বসতবাড়ীসহ প্রায় ৩ শতাধিক স্থাপনা গড়ে তোলার কারনে পালংখালীর খালটি এখন অস্থিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে সামন্য বৃষ্টিতে পালংখালী এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানির সাথে রোহিঙ্গাদের জন্য দায়সারা ভাবে নির্মিত শৌচাগার গুলো মলমুত্র একাকার হয়ে মারাত্নক পরিবেশ দুষনের কবলে পড়েছে গ্রামবাসী। স্থানীয় ইউপি সদস্য মৌলভী নুরুল হক জানান, এসমস্ত অপরিচ্ছন্ন পানি প্রবাহ ও জলাবদ্ধতার কারনে এখানে পানি বাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। খালটি দখলমুক্ত করার জন্য তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বেশ কয়েকবার পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতার কারনে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে পালংখালীর আওয়ামীলীগ নেতা এম এ মঞ্জুর জানিয়েছেন।
এদিকে উখিয়া সদর মহুরী পাড়া খাল দখল করে মার্কেট নির্মানের ফলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন খালটি পরিমাপ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারনবশত তা বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় গ্রামের হেডম্যান লেদু অভিযোগ করে জানান, খালের উপর মার্কেট নির্মানের ফলে বর্ষায় খালের পাড়ে বসবাসরত পরিবার গুলো পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, বর্ষায় তার ইউনিয়ন বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য ৬টি খাল খনন করার দাবী উত্তাপন করেছিল। তিনি পালংখালীর শতাধিক পাহাড় কাটার মাটি গিয়ে খাল ভরাটের নেপথ্যে এনজিও গুলোকে দায়ী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ দাবী করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এনজিও সংস্থা আইওএম ৬টি খাল খনন করার আস্বস্থ করলেও তারা কথা রাখেনি। তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক সাইফুল আশরাফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার পাহাড় কাটা, খাল ভরাট, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মান, আমন চাষাবাদ ব্যহ্নতসহ নানাবিদ পরিবেশ দুষনের সমস্যা নিয়ে সংবাদ কর্মীরা লেখালেখি করলে কাজ করতে তাদের জন্য ভাল হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পালংখালীতে পাহাড় কাটা মাটি ফসলী জমিতে পড়ে পলি জমেছে। অনেক স্থানে রোহিঙ্গারা চলাচল করছে। স্থায়ী জলমগ্নতার কারনে চলতি মৌসুমে প্রায় ১কশ হেক্টও জমিতে আমন চাষাবাদ করা সম্ভব হবেনা।

Share this post

scroll to top