উখিয়ার মাদরাসায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে শিক্ষকের হাতে ছাত্র প্রহৃত

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

গত বুধবার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসে মাইক বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের একটি মাদরাসার একজন শিক্ষক এক ছাত্রকে মারধরসহ তার মোবাইল ভেঙে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার একই মাদরাসার ওই ছাত্র সেদিন মাইক বাজানোর দায়িত্ব পালন করছিল।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ফাঁড়ির বিল এম কিউ আলীম মাদরাসায় ঘটেছে এ ঘটনা।
এ বিষয়ে গতরাতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান জানিয়েছেন- ‘মাদরাসার এটি একটি স্পর্শকাতর ঘটনা। আমি মাত্র আজই শুনেছি। ইতিমধ্যে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিয়েছি। ’খবর কালেরকন্ঠের

এলাকাবাসী জানান, মাদরাসাটিতে এদিন সকালে যথারীতি জাতীয় শোক দিবেসর অনুষ্ঠানে মাইক নেওয়া হয়। মাইকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হলে একই মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ জুলু গিয়ে বাধা প্রদান করেন। কিছুক্ষণ পর পুনরায় মাইকে জাতির জনকের ভাষণ বাজানো হলে একই শিক্ষক গিয়ে মাইক বাজানোর দায়িত্বে থাকা ছেলেটিকে মারধর করেন। এমনকি এক পর্যায়ে ওই ছেলের হাতে থাকা মোবাইল সেটটি নিয়ে আঁছড়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়

এ বিষয়ে মাদরাসাটির অধ্যক্ষ মওলানা জমির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমার মাদরাসার একজন শিক্ষক ওইদিন মাইক বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন।

শিক্ষক ঘটনার জন্য অবশ্য অনুতপ্ত। ’ অধ্যক্ষ বলেন, তবে ঘটনা সম্পর্কে ওই শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ জুলু তাঁকে (অধ্যক্ষ) ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন। শিক্ষক নাকি ওই দিন মাইকে দেশাত্মবোধক গান দেওয়া হলে তিনি বরং জাতির জনকের ভাষণ দিতে বলেছিলেন। আর তার না করায় রাগে ক্ষোভে তিনি মারধর এবং মোবাইল ভাঙচুরের মতো ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য অধ্যক্ষ নিজেও বলেছেন, ওই শিক্ষকের মোবাইল বন্ধ রয়েছে।
মাদরাসাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মঞ্জুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার মাদরাসা পরিচালনা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Share this post

scroll to top