রাখাইনে জাতিগত নিধনে সম্পৃক্ত সব সেনা কর্মকর্তার বিচার দাবী রোহিঙ্গাদের

11-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বরনকালে ভয়াবহ নৃশংসতার উপর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউঞ্চিলে তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে রোহিঙ্গা শিবিরে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জাতিসংঘের এ মহান উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে রোহিঙ্গা নেতারা জাতিগত নিধনে জড়িত সকল সেনা, পুলিশ, নাড়ালা, বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিচার দাবী করে বলেন, গত বছরের আগষ্টে রোহিঙ্গা হত্যাকান্ডের পর থেকে এটি আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘের জোরালো পদক্ষেপ। রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমার জান্তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্থাপনাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন করা হলে রোহিঙ্গাদের সেখানে গিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। তাই তারা একটি স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা হয়ে স্বদেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুতুপালং ও মধুর ছড়া ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা এসব কথা বলেন।
মধুরছড়া ক্যাম্প ডি- ৪ এ আশ্রীত রেঙ্গুন ইউনিভারসিটির ডিগ্রীর ছাত্র আব্দুর রাজ্জাক জানান, রোহিঙ্গারা ছাত্ররা ইউনিভারসিটির পড়া লেখা শেষ করে বের হলেও কোন সরকারি বেসরকারি চাকুরীতে নেওয়া হয়না। সে জানান, দেশের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে জীবন বাজী রেখে অনেকদিন নিজ বাড়ীতে ছিলাম। গত জুলাই মাসের ২৯ তারিখ রাচিদং ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে তাকে তলব করা হয়। সে যতাসময়ে হাজির না হলে সে দেশের সেনা বাহিনী তার গ্রামটি ঘীরে ফেলে তাকে ধরার জন্য বাড়ী বাড়ী তল্লাসি চালায়। সে জানায়, এমন পরিস্থিতিতে প্রান বাঁচাতে ১৭ আগষ্ট বাড়ীতে ৭ ভাই ৩ বোন এক স্ত্রীকে রেখে সে এদেশে চলে আসে। সে জাতিসংঘের জোরালো সিদ্ধান্তকে স্বগত জানিয়ে বলেন, গনহত্যার জন্য সেনা প্রধান, সিনিয়র জেনারেল মিং অংলাইচংসহ দেশটির শীর্ষ স্থানীয় জেনারেলদের মানবতাবিরোধী বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান। অন্যতায় রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমার সামরিক জান্তা বিলপ্ত করে ফেলবে।
মধুরছড়া ক্যাম্পের হেড মাঝি মোঃ আয়াছ জানান, সে রাখাইনে স্কুলের শিক্ষকতা করতেন সামরিক জান্তারা স্কুলসহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্টান পুড়িয়ে দিয়েছে। বোলড্রেজার মেশিন দিয়ে তাদেও বাড়ী ভিঠা নিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। এ মুহুর্তে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে গেলে তাদের বাড়ী ভিঠা চিনতে পারবেনা। ওই হেড মাঝি জানান, জাতিসংঘ ইচ্ছা করলে পারবে রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে। রোহিঙ্গা গনহত্যার দায়ে ৬ জেনারেলের মধ্যে সেনাবাহিনীর উপ- প্রধান ভাইচ সিনিয়র হেজনারেল সো উইন, ব্যুরো অব স্পেশাল অপারেশন ৩ নের কমান্ডার লেঃ জেনারেল অং কিয়াউ জ, পশ্চিমাঞ্চলীয় মিলেটারি কমান্ডের প্রধান মংমংসো এবং ৯৯ তম লাইট ইনফ্রান্টি ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থানউ ও সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং আইয়েংসহ ৬ জন জেনারেলকে বিচারের আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘের মানবধিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোহিঙ্গা নেতা মোঃ সোলতান জানান, তারা এপর্যন্ত মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে ৪ বার বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সে জানান, এখানে দুধ কলা দিয়ে ভাত খেলেও প্রশান্তি আসছেনা। তারা স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে এমন ভাবে ফিরতে চায় যেন আর বাংলাদেশে আসতে না হয়। এজন্য সে জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক বিশ্বের হস্তক্ষেপ কামনা করে মিয়ানমারের প্রতি আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করার দাবী জানান।
রোহিঙ্গা গনহত্যার জন্য মিয়ানমারের ৬ জেনারেলকে দায়ী করে জাতিসংঘের ঘোষিত প্রতিবেদনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে উখিয়া উপজেলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির আহব্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, এ প্রতিবেদন আর্ন্তজাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি ভিত্তি রচনা করবে। জাতিসংঘের অবস্থান আরো একটু শক্তিশালী হলে এদেশে আশ্রীত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা তাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share this post

scroll to top