সংবাদ শিরোনাম

শীঘ্রই শুরু হচ্ছে কক্সবাজার- টেকনাফ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ

images-6.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

শীঘ্রই শুরু হচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার কারণে প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ার ফলে এ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম হয়ে উঠেছে। তৎকালীন সময়ে নির্মিত সংকুচিত এই সড়কে দৈনিক ৫ হাজারেরও অধিক যানবাহন চলাচলের ফলে যানযট, সড়ক দূর্ঘটনা বেড়েছে আশংকাজনক ভাবে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ লিংক রোড থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত চার লেইন ও লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার ১২ ফুট প্রস্থের সড়ক এই সড়ককে ২৪ ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সড়কের আশে পাশে অবস্থিত স্থাপনাগুলোকে স্ব-উদ্যোগে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে সড়কটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উপরোন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক জান্তার অত্যাচার নিপীড়ন, গুম, খুন, ধর্ষণ ও আগুনে নিক্ষেপ করে শিশু হত্যার মতো নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড থেকে প্রাণ বাচাঁতে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ার ফলে এই্ সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শরণার্থী ক্যাম্পে মানবিক সেবায় নিয়োজিত প্রায় ২৫০টির মত এনজিও ব্যবহৃত ৫ হাজারেরও অধিক যানবাহন এ সড়কে সকাল সন্ধ্যা চলাচল করার কারণে সড়কে যানযট বেড়েছে আশংকাজনক ভাবে। এছাড়াও টেকনাফ সীমান্তের বাণিজ্যচুক্তির মালামাল ভর্তি যানবাহনসহ পরিবহন খাতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় পথচারী, স্কুল কলেজ গামী ছাত্রছাত্রী হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
উখিয়ার মটর চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান ও উখিয়া জীপ-মাইক্রো মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা মাত্রাতিরক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় সড়কের গুনগতমান ও ভারসাম্য হারিয়ে পুরো ৭৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্ত ও খানাখন্দকে একাকার হয়ে পড়ার কারণে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইতিমধ্যে সড়ক সংস্কারের নামে কংক্রিটের গুড়ো ও বালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তুললেও কয়েক ঘন্টা যানবাহন চলাচলের পর রাস্তার পুরোনো চেহারা ফুটে উঠে।
গত শুক্রবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর নাইক্ষংছড়ির চাকঢালা সীমান্ত হাট ও ঘুমধুম স্থল বন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শণ শেষে বেতবুনিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত পথ সভায় বলেন, মৈত্রী সড়ক নির্র্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা হবে। তাছাড়া স্থল বন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। শুধুমাত্র মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সম্মতি না পাওয়ার কারণে প্রস্তাবিত ঘুমধুম স্থল বন্দরের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কটি আরো প্রসস্থ ও দৃশ্যমান উন্নয়নের আশ্বস্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়া জানান, চলতি মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের চার লেইনের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পে ৩টি প্যাকেজে কাজ চলবে। প্রাক্কলিত ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন যেহেতু টেন্ডার হয়নি সেহেতু প্রাক্কলিত ব্যয় কত নির্ধারণ করা হয়েছে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি বলেন, লিংক রোড থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি চার লেইনে উন্নীত করা হবে এবং লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭৯ কিলোমিটার সড়কটি প্রস্থতা আরো বাড়িয়ে ২৪ ফুটে উন্নীত করার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এনজিওদের ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অসংখ্য যানবাহনের ভীড়ে পথচারী, শিক্ষার্থীর রাস্তা পারা পার হতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তাই সড়কটির প্রস্থতা আরো বাড়ানো এবং সংস্কার করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অবিহিত করার ফলশ্রুতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিদের্শে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কক্সবাজার টেকনাফ সড়কটি সম্প্রসারণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

Share this post

scroll to top