সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে অবৈধ বালি উত্তোলনের সরঞ্জমাধি উদ্ধারউখিয়ার ডেইলপাড়া করইবনিয়া এলাকা ইয়াবার জোওয়ারে ভাসছেউখিয়ার শীর্ষ ইয়াবা ডন মীর আহম্মদ অধরাহাজীর পাড়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারী মীর আহম্মদকে ধরিয়ে দিনউখিয়ার নুরুল আলমকে গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসবে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ…থাইংখালী বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগউখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মাটিবর্তী ডাম্পার গাড়ী আটকজালিয়া পালংয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে নিঃশ্ব হলেন খামার ব্যবসায়ী – আহত…উখিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারী আলী আকবর বিদেশী মদসহ আটকউখিয়ার মুছারখোলা বিট কর্মকর্তা আবছারের নেতৃত্বে পাহাড় কাটা ও বালি…

লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ

Pic-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

প্রান বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এদেশে আশ্রয় নেওয়া লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে অস্থায়ী ভাবে পূর্ণবাসন করতে চায় সরকার। এজন্য দ্রুত এই দুর্গম চরে রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে ভাসানচর উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে রোহিঙ্গাদের দাবী তাদেরকে দুর্গম চরে না নিয়ে জাতিসংঘের সহায়তায় সরকার মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যেতে উদ্যোগ গ্রহন করুক। যেহেতু সেখানে তাদের সহায় সম্পত্তি রয়েছে। কক্সবাজার ত্রান ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা বলছেন, বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে এক জায়গাতে দীর্ঘস্থায়ী বসবাসের সুযোগ না দিয়ে প্রাথমিক ভাবে লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পূর্ণবাসন করার সরকারের উদ্যোগ রয়েছে।
বিভিন্ন গনমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত পক্ষে ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে অস্থায়ী আবাসন গড়ে তোলতে ২০১৭ সালে একনেক বৈঠকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ভাসানচর ভাঙ্গন প্রতিরোধসহ বেড়িবাধঁ নির্মানের কথা রয়েছে। সেখানে ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ১৪৪০টি ব্যারাক হাউজ এবং ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান করা হবে। ভাসানচরে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আয়ের উৎস সৃষ্টি করতে ছোট দোকান, বিক্রয় কেন্দ্র নির্মানের পাশাপাশি গরু মহিষ হাসঁ মুরগি পালন, অভ্যান্তরিন জলাশয়ে মাছ চাষ কুটির শিল্পসহ নানা আতœকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মৎস ও প্রানী সম্পদ বিভাগ ও মিল্ক ভিটাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি এনজিও সংস্থাকে সম্পৃত্ত করা হবে। তথ্য মন্ত্রনালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রনালয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের এ পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হলেও গত বছরের আগষ্টে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর ওই প্রকল্পটি আবারো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারীতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্য সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এদেশে আশ্রীত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়ার বাস্তবতায় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নিয়ে শুরু হয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে সরকার প্রথম দফায় ১লাখ ৩ হাজার ২শ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে ২০১২ সালে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক ও সেক্রেটারী মোঃ নুরের সাথে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের বিষয় নিয়ে আলাপ করা হলে তারা জানান, অনেক কষ্ট, ত্যাগ তিতিক্কা অতিক্রম করে সহায় সম্পত্তি ও স্বজন হারা রোহিঙ্গারা এখানে অনেকটা ভাল আছে। তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতায় জাতিসংঘ ও বিশে^র অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। যদি প্রত্যাবাসন শুরু হয় তাহলে তারা সহজে নিজ দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হবে। এরি মধ্যে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করলে মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ে পরিনত হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নাগরিক অধিকার নিয়ে ফেরানোর জন্য সরকার আন্তরিক। তাই ভাসানচরে স্থানান্তরের চাইতে রোহিঙ্গাদের সার্বিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রনের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক তদারকি বৃদ্ধির পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প ত্যাগ করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না পাড়তে পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহন করা দরকার। এব্যাপারে কক্সবাজার ত্রান ও পূর্ণবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক জীপন যাপনের লক্ষে লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ সরকারের রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ কবে বাস্তবায়ন হয় তা এখন বলা যাচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

Share this post

scroll to top