উখিয়ার হাটবাজারে প্রচুর ইলিশ, দাম ও কম

pic-a-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ার সাগর উপক’লীয় এলাকায় বসবাসরত জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। বঙ্গোপসাগর উপক’লীয় এলাকায় বিভিন্ন নদনদী ও মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাকে ঝাকে ইলিশ। এক সময়ের সোনার হরিণ খ্যাত রূপালী ইলিশের ছড়াছড়ি পড়েছে হাটবাজার গুলোতে। দাম কম হওয়ায় নি¤œ ও মধ্যবৃত্ত পরিবার গুলো ইলিশের স্বাদ গ্রহন করতে পাড়ছে। ইলিশ ছাড়াও সাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছে ভরপুর হাটবাজার গুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে প্রান চাঞ্চল্য। মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন ইলিশের প্রজানন সময়ে সাগর উপক’লে কোষ্টগার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক অভিযানের কারনে জেলেরা সাগরে নামতে পারেনি। যে কারনে ইলিশের প্রজনন সংখ্যা বেড়েছে আশাতিত ভাবে। ফলে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার আয়ত্বে চলে এসেছে ইলিশের বাজার।
গতকাল শুক্রবার সাগর উপক’লীয় এলাকা সোনার পাড়া, ঘাটঘর, নিদানিয়া, ইনানী ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সাগর উপক’লীয় এলাকায় প্রচুর ইলিশ ধরাপড়ার কারনে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়েছে। তাই জেলেরা উপক’লের কাছাকাছি এলাকা থেকে মাছ আহরন করে নিরাপদে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। ফিশিং বোটের মাঝি আশরাফ মিয়াজী (৪৫) জানান, উপক’লে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে তা আকারে একটু ছোট। তবে গভীর সাগরে যেসব ইলিশ জালে আড়কা পড়ছে এসব ইলিশ কেজি পরিমান সাইজের। কিন্তু সেখানে জলদস্যুদের ভয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যাচ্ছে না। সোনার পাড়া উপকূলে দেখা যায়, জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশ খাছাবর্তী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কক্সবাজার বিভিন্ন আড়তে। আনোয়ারুল হাকিম (৩৫), রমজান আলী (২৮) সহ বেশ কয়েকজন আড়তদার প্রতিনিধির সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, জেলেরা যে সমস্ত ইলিশ আহরন করবে তা তাদেরকে সর্বরাহ দেওয়ার জন্য আগাম টাকা দেওয়া হয়েছে। তাই স্থানীয় ভাবে ইলিশ বিক্রির কোন সুযোগ নেই।
উখিয়ার হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর পরিমান ইলিশ বাজারে উঠেছে। মাছ বিক্রেতা অমিয় বড়–য়া (৩৫) জানান, তারা কক্সবাজার আড়ত থেকে মাছ সরবরাহ এনে বাজার জাত করছে। সে জানান, দুটিতে ১ কেজি ওজনের চাইতে বড় ইলিশের দাম একটু বেশি হলেও আধা কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে সাড়ে ৩শ টাকা। বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা সাধারন বলেলন অনেকদিন পর স্বাচ্ছন্দে ইলিশ কেনাকাটা করতে পারছে। যা ছিল এ ইলিশ গরীবদের জন্য এক সময়ে সোনার হরিণ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোঃ এরশাদ বীন শাহিন জানান, সাগরে ইলিশ প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ও ঝাটকা ইলিশ রক্ষায় তারা কোষ্টগার্ডের সহায়তায় সরকারের বেধেঁ দেওয়া সময় সীমার ভিতরে ব্যাপক অভিযান,তদারকি করেছে। যে কারনে চলতি মৌসুমে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

Share this post

scroll to top