ক্যাম্প ভিত্তিক ভূয়া দন্ত চিকিৎসকের ছড়াছড়ি

images.jpg

রফিক উদ্দিন বাবুল উখিয়া::

বহুরূপী চিকিৎসক নামধারী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এবার দন্ত চিকিৎসার বাহারি সাইনবোর্ড ও অস্থিত্বহীন পদবী দিয়ে অভিনব প্রতারনার মাধ্যমে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়িকাড়ি টাকা। স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবিন্ধুরা এসব ভূইপোড় দন্ত চিকিৎসকদের আমলনামা খথিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। তারা দাবী রেখেছেন অবৈধ ডিগ্রীধারী দন্ত চিকিৎসকসহ বহুমূখী চিকিৎসকদের আইনের আওতায় আনার জন্য
রোববার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ একরামুল ছিদ্দিক কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজারে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে দুইজন ভূয়া রোহিঙ্গা চিকিৎসকসহ ৮জনকে আটক করেছে। এসময় রোহিঙ্গা সেলিম ডাক্তার নামের একজনকে ৭ দিনের সাজা ও অন্য ৭ জনকে ১ মাসের করে সাজা প্রদান করেছে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী অনুরোপ ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আনোয়ার নামের একজন রোহিঙ্গা চিকিৎসককে আটক করে। পরে তাকে দীর্ঘক্ষন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডাক্তারী পেশার কোন বৈধতা না পাওয়ায় আদালত তাকে ৭ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরন করেছে। তার পরেও থেমে নেই রোহিঙ্গা চিকিৎসকদের দৌরত্ব।
সোমবার বিকালে কুতুপালং বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফ্যামেলী ডেন্টাল কেয়ার নামে একটি দন্ত চিকিৎসকের সাইনবোর্ড। তার ব্যাপারে স্থানীয় মকবুল হোসেন, সোনামিয়া, রশিদ আহম্মদ সহ একাধিক লোকজন জানান, উক্ত ডেন্টাল কেয়ারে আরমান উদ্দিন দন্ত চিকিৎসার নামে অবৈধ ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও তার এ অপচিকিৎসায় কেউ উপকৃত হয়নি। দোকানে গিয়ে দেখা যায়, আরমান উদ্দিন নামের সেই চিকিৎসক বাহিরে তবে সেখানে দেখা মিলল একজন মহিলা। স্থানীয়রা জানালেন সেও নাকি দন্ত চিকিৎসক। বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ডাক্তার আব্দুল মজিদ জানান, বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টী একি স্থানে অবস্থানের সুযোগে এক শ্রেনীর প্রতারক চক্র চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক সহ বিভিন্ন পেশার নাম ভাঙ্গিয়ে অভিনব কায়দায় চেম্বার খোলে বসেছে। অথচ এদের কোন বৈধতা নেই। দোকান প্রত্যক্ষ করে দন্ত চিকিৎসকের যে সমস্ত যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও লাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা তাও নেই।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভ’য়া চিকিৎসকদের ব্যাপারে প্রশাসনের কড়া নজরধারী রয়েছে। তিনি দন্ত চিকিৎসকের বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আস্বস্ত করে বলেন, ইতিপূর্বে উখিয়া ষ্টেশনে দন্ত চিকিৎসক নামধারী ডাক্তার মাহবুব অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রটি সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

Share this post

scroll to top