সংবাদ শিরোনাম

সড়ক পথে ইয়াবার চালান যাচ্ছে সারাদেশে

ceab04c4680df1a21be91acd46cdcc28-yaba-tablets-1-640x336-1.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ::

উখিয়া – টেকনাফের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মৃত্যুদন্ডের মতো ভয়ংকর সাজাকেও তারা পরোয়া করছেনা। গডফাদাররা পর্দার অন্তরালে থেকে বাহক মারফত ইয়াবার চালান পাচার হওয়ায় মূল হোতারা ধরা পড়ছেনা। অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানেও ইয়াবার রমরমা বানিজ্য নিয়ে জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দাবী, তারা চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আটক করেছে ৬৫৮জন পাচারকারীকে।
উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও সেবন প্রতিরোধে যুবসমাজ নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন পূর্বাঞ্চলীয় মাদক ও চোরাচালান নিমূল কমিটির সভাপতি এটি এম রশিদ ও সাধারন সম্পাদক রাসেল উদ্দিন সুজন জানান, তারা সীমান্তের চিহ্নিত স্পটে পাহারা দেওয়ার কারনে পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করেছে। আমতলী সীমান্ত দিয়ে মাদক না আসলেও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এলাকার ক্ষতিপয় প্রভাবশালী ইয়াবা পাচার করছে।
কক্সবাজার র‌্যাব ৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেট আতœরক্ষার জন্য অনেক সময় ভয়ংকর অস্ত্র বহন করে মাদক পাচার করে থাকে। যে কারনে ইয়াবার চালান উদ্ধারের সময় পাচারকারীদের সাথে বন্ধুকযুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি বলেন, চলতি মাসের জুন মাস থেকে ১৪ সেপ্টেম্বও পর্যন্ত সড়ক পথের বিভিন্ন যানবাহন ও ঝুকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮শ ৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এসময় আটক করা হয়েছে ১৫৮ জন পাচারকারীকে।
টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিৎ কুমার বড়–য়া জানান, ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হচ্ছে টেকনাফ। বিস্তিৃন্য নদী মাতৃক জল সীমান্ত পথ দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় ইয়াবার চালান আসে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ চালান পুলিশ ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করলেও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা যাচ্ছে না। যে কারনে মাদক পাচার একেবারে বন্ধ না হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে অনেকটা কমেছে বলে দাবী করে বলেন, জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত টেকনাফ থানা পুলিশ ৩০ লাখ পিস ইয়াবাসহ ১৪০জন পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে ভিআইপি পটোকল, এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত খাটুনি করে পুলিশ জানুয়ারী থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ৩লাখ ৮১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১২৬ জনকে আটক করেছে।
কাহপরীরদ্বীপ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রাজেশ বড়–য়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন যানবাহনে অভিযান চালিয়ে গত ৩ মাসে ৩লাখ পিস ইয়াবাসহ প্রায় ২৫জন পাচারকারীকে আটক করা হলেও মূল হোতাদের পাওয়া যায়নি। যেহেতু তারা পর্দার আড়ালে থেকে যানবাহনের চালক হেলপারকে মোটা অংকের লোভ দেখিয়ে ইয়াবার চালান পাচারের চেষ্টা করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ একরামুল ছিদ্দিক জানান, ইয়াবা পাচার ও সেবন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ইয়াবা সেবন করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও পিতা Ñ মাতাকে মারধর করে টাকা পয়সা ও বাড়ীর মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জানুয়ারী থেকে এপর্যন্ত ৩৬৭জন যুবক কে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। মেরিনড্রাইভ সড়কের রেজু চেকপোষ্টের বিজিবি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার বিকাল ৪ টার দিকে কক্সবাজার গামী একটি সিএনজি গাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে পাবনা সুজানগর ভবানিপুর গ্রামের জালাল হাজারী (৫০), মোঃ আশিক (২১), মনিরুল ইসলাম(২৬), আশায় আলী মিয়া (৩৫) সহ ৪জনকে ইয়াবাসহ আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this post

scroll to top