আতংকের জনপদ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক

Ukhiya-Pic-18.10.2018.jpg

রফিক উদ্দিন বাবুল উখিয়া ::

১০ টন ওজনের মালামালবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত সড়কে এখন অতিরিক্ত পণ্য ও ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ ৭৯ কিলোমিটার সড়ক পথ এখন আতংকের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২৫ আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ায় তাদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত প্রায় আড়াই শতাধিক এনজিও সংস্থার ত্রাণবাহী ও বাণিজ্যিক ভাবে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকার কারণে পুরো সড়কটি খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাঝে মধ্যে এসব খানাখন্দকে ইট, বালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও তা ঘণ্টার বেশী স্থায়ী থাকে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার গ্যাস সিলিন্ডার ও ত্রাণবাহী দুটি ট্রাক থাইংখালী কবরস্থান এলাকায় প্রধান সড়কে দেবে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এসময় যাত্রীদের অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় চৌকিদার রফিক আহমদ জানায়, ওই স্থান সড়ক ও জনপদ বিভাগ একটি নি¤œমানের কালভার্ট তৈরি করে। যেখানে বৃষ্টির পানি সবসময় জমাট বেঁেধ থাকে। যেকারণে ভারসাম্য হারিয়ে গাড়ি দুটি সেখানে আটকা পড়ে যায়। রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর ক্রাইং ব্যবহার করে গাড়ী দুটি সরিয়ে ফেলা হলে সড়ক যোগাযোগ সচল হয়ে পড়ে।
কোটবাজার ট্রাক মালিক চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ শাহজাহান জানান, মূলত এ সড়কটি নির্মিত হয়েছিল ১০ টন ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য। বর্তমানে এ সড়কের উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী বাঁশ, ইট, সিমেন্ট, বালি ও ত্রাণ সামগ্রী ভর্তি গাড়ী চলাচলের কারণে সড়কটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। উখিয়া বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, শরণার্থী শিবির কেন্দ্রিক যে সমস্ত যানবাহন গুলো চলাচল করছে তার চেয়ে বেশি ছোটখাট যানবাহন চলাচল করছে বাণিজ্যিক ভাবে। যেমন বটবটি, টমটম, সিএনজি, অটোরিক্সা, ডাম্পার ও ছারপোকা। অদক্ষ, অযোগ্য চালক দ্বারা চালিত এসব গাড়ী গুলোর কারণে নিয়ন্ত্রণহীন সড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ক্ষতবিক্ষত ও পঙ্গু হয়ে জীবন করছে অসংখ্য পথচারী ও যাত্রী সাধারণ।
অভিযোগ উঠেছে, যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়ক পথের কোটবাজার, উখিয়া সদর, কুতুপালং, বালূখালী, থাইংখালী ও পালংখালী এলাকায় নাম মাত্র কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও তা কোন কাজে আসছে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা গাড়ী নিয়ন্ত্রণের চাইতে পকেট ভর্তির তালে থাকে দীর্ঘ সময়। যে কারণে যানজট, দূর্ঘটনাসহ বহুমুখী সমস্যা তাদের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক সড়ক দখল করে হাজার হাজার দোকানপাট গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে সড়ক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দূর্ঘটনা এড়াতে এসব দোকানপাট স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথা সময়ে উক্ত দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া না হলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়ার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, কক্সবাজার ৭৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, পরিবহন সহজ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল সহজতর করতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ৪৫৮ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে এ প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

Share this post

scroll to top