উখিয়া সীমান্তের ডেইল পাড়া, দরগাবিল আঞ্চলিক সড়ক

ceab04c4680df1a21be91acd46cdcc28-yaba-tablets-1-640x336-4.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ::

উখিয়া সদর থেকে সীমান্তের ডেইলপাড়া, দরগাহবিল সড়কের দুরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে মিয়ানমার সীমান্তে পৌছতে লাগে ১ ঘন্টা। যেখানে রয়েছে সুউচ্চ ওয়ালিদং পাহাড়ের উপর ২০১৬ সালে নির্মিত বিজিপি ক্যাম্প। রাতের বেলায় বিজিপি ক্যাম্পে স্থাপন করা সোলার লাইট, দরগাহবিল থেকে স্পট দেখা যায়। ওই পথ দিয়ে বিজিবি সদস্যদের মাসোহারা দিয়ে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবা সিগেরেটসহ বিভিন্ন প্রজাতির বোতলজাত মাদক দ্রব্য। বিনিময়ে এখান থেকে যাচ্ছে খাদ্যপন্য ও ঔষুধ সামগ্রী। আমতলী ও ডেইলপাড়া সীমান্তে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্যউপাথ্য জানা গেছে।
এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম জানান, ডেইল পাড়া, দরগাহবিল, আমতলী, তোলাতলী এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য মন্সি আলমের ছোট ভাই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রফিক আলমের নেতৃত্বে এখলাছ মিয়া, হোছন আলীর ছেলে আনোয়ারুল আসলাম,মোঃ হোছনের ছেলে শাহজান প্রকাশ খলিবা শাহজান, জসিম উদ্দিন, ছৈয়দ আলমের ছেলে শামশুল আলমসহ ১৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট চোরাইপন্য ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, মজুদ করে অন্য ৭ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদকের চালান গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়। তিনি জানান, এদের সাথে রয়েছে এক শ্রেনীর অসাধু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের দহরম মহরম। যে কারনে ইয়াবা পাচার কমছেনা। উপরোন্ত আরো বাড়ছে দাবী করে ওই ইউপি সদস্য জানান, প্রতিরাতে শতাধিক রোহিঙ্গার একটি বহর মিয়ানমারের তৈরি বিভিন্ন প্রজাতির মালামাল নিয়ে আসে। কিছু কিছু মাদক দ্রব্য ক্যাম্পে চলে যায়। বাকী মাদক দ্রব্য ওই তিন সদস্যের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়। সম্প্রতি ৪/৫ জন রোহিঙ্গা প্রায় ১ বস্তা ইয়াবা নিয়ে ডেইলপাড়া থেকে রওয়ানা হয়ে কিছু দুর আসলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা স্থানীয় ইয়াবা পাচারকারী চক্র রোহিঙ্গাদের মারধর করে ইয়াবার চালানটি কেড়ে নেয়। মাদক দ্রব্য হওয়ার কারনে এ ঘটনা থানা পর্যন্ত না পৌছলে ও এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বঞ্চলীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক এটিএম রশিদ জানান, ডেইলপাড়া ও দরগাহবিল এ দুটি সড়ক আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরধারীতে রাখলে চোরা চালান ও ইয়াবা পাচার আগের যেই কোন সময়ের তুলনায় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তিনি জানান, অহরহ ইয়াবা পাচার হয়ে আসার কারনে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী শতকরা ৮০ টি পরিবারের কেউ না কেউ ইয়াবা সেবন, খুচরা বিক্রি ও পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। ইয়াবার লেনদেন নিয়ে প্রতিদিন অহরহ ঘটনা ঘটছে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়েরের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারনে প্রবল ইচ্ছা থাকা সর্তেও মাদক পাচার প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোন ভুমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, একদিকে রোহিঙ্গা অন্যদিকে চোর ডাকাতের তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ততাপিও ইয়াবা পাচারকারীদের একটি তালিকা প্রনয়নের কাজ চলছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

Share this post

scroll to top