রোহিঙ্গাদের বেপরোয়া আচরনে স্থানীয়দের মাঝে উত্তপ্ত পরিবেশ

7.jpg

রফিক উদ্দিন বাবুল উখিয়া ::

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত হয়ে এখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আধিপাত্য বিস্তার, ত্রানের মালামাল নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজী, অপহরন, খুন, গুম প্রভৃতি সহিংস ঘটনা নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিরাজ করছে অস্থির পরিবেশ। রোহিঙ্গাদের এসব অনৈতিক আচরনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গ্রামগঞ্জে বসবাসরত সাধারন মানুষের মাঝে। তাদের দাবী রোহিঙ্গাদের কারনে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে গেছে। যে কারনে আশংকা নিয়ে তাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুতুপালং ১৭ নাম্বার ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিক অভিযোগ করে জানান, ধারালো অস্ত্র বহনকারী কথিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের রামরাজত্ব ও ত্রাস সৃষ্টির কারনে এখন রোহিঙ্গারাই রোহিঙ্গার শক্র হয়ে দাড়িয়েছে। কুতুপালং ১৭ নং ক্যাম্পের ডি- ব্লকের বাসিন্দা আমির হোসেন (৪৫) জানান, তার ক্যাম্পের মাঝির সাথে চলাফেরা করার ঘটনা নিয়ে প্রতি পক্ষ একটি গ্রুপ তাকে তিন মাস ধরে ছেলে মেয়ে পরিবারের মূখ দেখতে দিচ্ছে না। তাকে প্রানে মেরে ফেলার জন্য প্রতিরাতেই সন্ত্রাসীরা তার বাড়ীর আশে পাশে ঘুরা ফেরা করছে। এ ঘটনা নিয়ে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক ও সেক্রেটারী মোঃ নুর জানান, তারা ২০১২ সালে কুতুপালং বন ভুমিতে এক সাথে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামবাসীর সাথে তাদের বৈরি পরিবেশ অক্ষুন্ন থাকার কারনে গ্রামবাসীর সহায়তায় সরকারি বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া ৭ বছর কাটিয়েছেন। তারা জানান, ২৫ আগষ্টের পরে যে সমস্ত রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে সহানুভতি ও মানুষ্যত্ববোধ বলতে কিছুই নেই। তারা আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি, চাঁদাবাজীর ঘটনা নিয়ে অপহরন, খুন,গুম এসব রোহিঙ্গাদের নিত্য দিনের পেশায় পরিনত হয়েছে। তারা স্থানীয়দের বাড়ী ভিঠা, ফলজ বাগান, চাষাবাদের জমি দখল করে জোরপূর্বক ঘরবাড়ী নির্মান করায় স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক দিন দিন উত্তাপ্ত হয়ে উঠছে। কুতুপালং ডি – ১ ব্লকের এখলাছ, ভুলু ও নাজু সহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, রাতের বেলায় ধারালো অস্ত্রধারী একদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাস সৃষ্টি করে বাড়ীবাড়ী গিয়ে একটি সংগঠনের ব্যানারে চাঁদাবাজী করছে। চাঁদা না দিলে অপহরন করে খুন করার ভয়ে অনেকেই তা প্রকাশ করছেনা। লম্বাশিয়া গ্রামের আবুল হোসেন জানান, রোহিঙ্গারা তার বসত ভিঠা ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নিয়ে গেছে। পানের বরজের পান সুপারী সহ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। প্রতিবাদ করলে এসব রোহিঙ্গারা উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ খায়রুজ্জামান জানান, উখিয়ার ২০টি ক্যাম্পে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। স্থানীয়দের চাইতে রোহিঙ্গার পাল্লা ভারী হওয়ার করনে তারা অপরাধ করতেই পারে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

scroll to top