উখিয়ায় গ্রামীণ সড়কে ধানচারা রোপন করে গ্রামবাসীর ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ

Ukhiya-Pic-05.11.2018.jpg

কায়সার হামিদ মানিক উখিয়া ::

এলাকার কতিপয় চিহ্নিত দুর্বৃত্ত তাদের মালিকানাধীন ও ভাড়া করা ডাম্পার গাড়ি দিয়ে নিয়মিত পাহাড় কাটা মাটি ও অবৈধ বালি পরিবহনের ফলে রাজাপালং পশ্চিম হরিণমারা মোহছেন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে গ্রামবাসী শত প্রতিবাদ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি। নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসী সড়কের উপর আমন চারা রোপন করে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।
ধানের চারা রোপনকালে স্থানীয়দের নিকট থেকে জানতে চাওয়া হলে সড়কের উপর কেন ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে। প্রতি উত্তরে তারা বললেন, এছাড়া তাদের আর কোন অন্য উপায় নেই। কারণ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ডাম্পার গাড়ী ভর্তি করে কাঁচা সড়কের উপর দিয়ে নিয়মিত পাহাড় কাটা মাটি ও বালি পরিবহন করায় স্কুল সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জাফর আলম মেম্বার জানান, একটু বৃষ্টি হলেই ছেলে মেয়েরা স্কুলে আসতে পারে না। বালি, মাটি ভর্তি গাড়ী চলাচলের কারণে সড়কের এমন পরিস্থিতির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ করেও কোন কাজ হয়নি।
মোহছেন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা হলে তারা একযোগে প্রতিবাদ করে উঠে বলেন, স্কুলে আসা যাওয়ার একমাত্র সড়ক পথে বালি, মাটি পাচার করার ফলে স্কুলে আসা যাওয়া করতে গিয়ে তাদের স্কুলের পোশাক কাদায় একাকার হয়ে যায়। স্কুল থেকে গিয়ে প্রতিদিন কাপড় পরিস্কার করতে হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা খালেদা আকতার জানান, রাস্তাটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসার দুঃখ দর্দশার চিত্র উপলদ্ধি করতে পেরে স্থানীয় অভিভাবকেরা সড়কের উপর ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, আর যেন এ সড়কের উপর দিয়ে অবৈধ বালি মাটি পাচার করা না হয়।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান জানান, তিনি নিজেই স্কুলটি পরিদর্শন করে রাস্তার বেহাল দশার নৈপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী নুরুল ইসলাম, শামশুল আলম ও মোহাম্মদ ছৈয়দ জানায়, রাজাপালং বনবিট কর্মকর্তা মোঃ আমিন হোসেন গজনবীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্ত ডাম্পার গাড়ি দিয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ী বালি ও মাটি পাচার করছে। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ওই বিট কর্মকর্তা অভিযোগের অস্বীকার করেন।

Share this post

scroll to top