উখিয়ায় চলমান কর্মসৃজন প্রকল্পে সমন্বয়হীনতা, লুটপাটের আশংকা

রফিক উদ্দিন বাবুল উখিয়া ::

উখিয়ায় হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর কাজ আরম্ভ হয়েছে আজ ১১ দিন। এ উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন যথাসময়ে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ গত ২৭ অক্টোবর শুরু করলেও অন্য দুটি ইউনিয়ন রতœাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে কাজ এ আজ পর্যন্ত শুরু হয়নি। সচেতন মহলের অভিযোগ সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনের নির্দেশের প্রতি তোয়াক্কা না করে যথা সময়ে কাজ আরম্ভ না করায় শত শত হতদরিদ্র শ্রমিক তাদের প্রাপ্য মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, যে দুটি ইউনিয়ন এ পর্যন্তও কাজ শুরু করেনি তাদেরকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচীর আওতায় প্রথম পর্যায়ে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় জালিয়াপালং ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্প হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্প ও রাজাপালং ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্প সহ ২২টি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও পালংখালী ইউনিয়ন ও রতœাপালং ইউনিয়নের কাজ এ পর্যন্তও শুরু করা হয়নি। এব্যাপারে রতœাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, ট্যাক অফিসারকে সাথে নিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে কাজ করার উপযোগী কিনা তা যাচাই বাছাই করে সঠিক সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে কাজ আরম্ভ করা হবে। চেয়ারম্যানের এমন জবাবের প্রেক্ষিতে জানতে চাওয়া হলে পুরো উপজেলায় যথাসময়ে কাজ আরম্ভ না হলে প্রশাসনিক ভাবে উক্ত প্রকল্প তদারকির কাজে ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, কাজের স্বচ্ছতা ও গুনগতমান সম্পন্ন প্রকল্পের কাজ করার জন্য কালক্ষেপন করা হচ্ছে।
এব্যাপারে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিনের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উক্ত ইউনিয়নের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানালেন, বিগত দিনে কর্মসৃজনের নামে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে, চলমান কর্মসূচীতেও তাই করা হবে। যে কারণে যথাসময়ে কাজ আরম্ভ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার অফিস সহকারি মিজানুর রহমান জানান, তারা এখনো পর্যন্ত প্রকল্প জমা দেয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে ২৭ অক্টোবর ৩টি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর কাজ আরম্ভ হয়েছে। অন্য দুটি ইউনিয়ন রতœাপালং ও পালংখালীতে কেন কাজ আরম্ভ করা হল না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওই দুই ইউনিয়নের দু’জন চেয়ারম্যানকে কাজ শুরু করার জন্য বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও কাজ শুরু করেনি। যে কারণে তাদেরকে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।

Share this post

scroll to top