থাইংখালী হয়ে ইমামের ডেইল মেরিনড্রাইভ সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে চলছে

pic-ukhiya-1.jpg

মাহমুদুল হক বাবুল উখিয়া ::

হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকায় ব্যায়বরাদ্ধে উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা পালংখালী ইউনিয়নের খাইংখালী আরকান সড়ক থেকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইমামের ডেইল মেরিনড্রাইভ সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সাড়ে ৪শত শ্রমিক ৪০ দিনের মধ্যে ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের পরিকল্পনা নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেছে। এ সড়কটির নির্মান কাজ শেষ হলে তেলখোলা মুছারখোলায় বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার নৃতাত্বিক জনগোষ্টী সার্বিক ভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি এনজিও সংস্থার যানবাহন গুলো নির্মাধীন সড়ক পথ ব্যবহার করে উখিয়ার ২০ টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। তা যদি সম্ভব হয় কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে চলমান যানজট নিরসন কল্পে উক্ত প্রকল্পটি দৃশ্যমান ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিন থাইংখালী হয়ে উমামের ডেইল নির্মানাধীন মেরিনড্রাইভ সংযোগ সড়কের একাংশ ঘুরে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তেলখোলা গ্রামবাসী জানান, এ সড়কটির নির্মান কাজ শেষ হলে এখানে বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার জনগোষ্টীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এখানে উৎপাদিত পন্যসামগ্রী বাজারজাত করন সহজতর হবে। স্থানীয় হেডম্যান বাউনু চাকমা বলেন, একমাত্র যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার জনগোষ্টী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। এলাকার ইউপি সদস্য তোফাইল আহম্মদ মেম্বার জানান, নির্মানাধীন এ সড়কটি বর্তমানে গর্জনখোলা খালের আগা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এগিয়েছে। আর ৯ কিলোমিটার সড়ক পথ নির্মান কাজ শেষ হলে উপক’লের ইমামের ডেইল মেরিনড্রাইভের সাথে সংযুক্ত হবে। তিনি বলেন, সড়ক নির্মানের কাজ শুরু হওয়ায় তেলখো মুছারখোলাবাসীর মধ্যে প্রানচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন জানান, নির্মানাধীন সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে থাইংখালী খালের আগা থেকে তাজনিমারখোলা ব্রীক ফিল্ড পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করে দেওয়া হবে বলে বিশ্বব্যাংক আশ্বস্থ করেছে। তিনি বলেন, ১৩ কিলোমিটার এ সড়কটির নির্মান কাজ সম্পন্ন করতে হলে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাকী ৫২ লাখ টাকা কিভাবে ম্যানেজ করবেন জানতে চাওয়া হলে গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, এখানে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সহায়তা নিয়ে হলেও সড়ক নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ১২ হাজার মানুষের বসবাস থাইংখালী মুছারখোলা গ্রামে কেন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন বিভাগ তাদের জায়গা দাবী হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করার কারনে পল্লী বিদ্যুৎ ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, দৃশ্যমান এ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎতায়নের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও আশরাফ আলী ৪ হাজার ৮ মিটার সড়ক নির্মান কাজ পরিদর্শন করে সড়ক নির্মান কাজ সহজতর করার লক্ষে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে প্রকল্পের সমন্বয়ক তোফাইল আহম্মদ জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, থাইংখালী থেকে উপক’ল পর্যন্ত সড়ক নির্মানের বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এখনো পর্যন্ত পকল্পের কাগজ পত্র জমা দেয়নি।

Share this post

scroll to top