রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক মানবপাচারকারী চক্র ফের সক্রিয়

8-1.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ::

প্রশাসনের তালিকাভুক্ত পাচারকারীদের ইন্ধন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সাগর পথে মালেশিয়া পাড়ি দিতে আবারো তোড়জোড় শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক এক শ্রেনীর পেশাদার মানবপাচারকারী চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন উপক’লীয় এলাকার নিরাপদ রুট ব্যবহার করে ইতিমধ্যে কয়েকদফা রোহিঙ্গার চালান পাচার হয়ে যাওয়ার খবরের ভিত্তিতে নড়েচড়ে উঠেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। বিজিবি সদস্যরা শাহপরীরদ্বীপ উপক’লীয় এলাকা থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করার ঘটনা নিয়ে নিরবে নিভৃতে সাগর পথে অবৈধ ভাবে মানব পাচারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উখিয়ার মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, বর্তমানে সাগর শান্ত থাকার কারনে সাগর পথে মানবপাচারের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃংখলা বাহিনী মাদক পাচার প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকার সুযোগে তালিকাভুক্ত মানবপাচার চক্র আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ২০১২ সালে উখিয়ার সাগর উপক’লীয় এলাকা দিয়ে ফিশিং বোটের মাধ্যমে সাগর পথে মানবপাচার বানিজ্য শুরু হয়। বর্তমানে উখিয়ার উপক’লীয় এলাকায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় থাকার কারনে পাচারকারী চক্র টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচার শুরু করেছে। রোববার রোহিঙ্গা নেতা ডাঃ জাফর আলম জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে একশ্রেনীর মানব পাচার চক্র নিরহ রোহিঙ্গাদের কম খরচে সাগর পথে মালেশিয়ায় পৌছে দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের অবৈধ বানিজ্য আবারো শুরু করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, মালেশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে শাহপরীরদ্বীপ বিজিবির হাতে ধৃত মোঃ ইয়াছিন, মোঃ ইসলাম, খাইরুল আমিন, জাকির আহম্মদ, সাইদুল আমিন,মোঃ সোলতান, ফরিদুল আলম ৫ জন কিশোরী ২ জন কিশোরসহ ১৪ জন জামতলী, বালুখালী, থাইংখালী ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ফরিদুল আলমের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ২০১৭ সালে ২৫ আগষ্টের পরে স্বপরিবারে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গা আয়ুব আলী মালেশিয়া পাঠানোর কথা বলে জনপ্রতি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে ৩০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নিয়ে বাকী টাকা মালেশিয়া পৌছলে লেনদেন করার কথা পাকাপোক্ত করে। পরে আয়ুব আলী ১৪ রোহিঙ্গাকে মাইক্রোবাসে করে অতি সুকৌশলে কুতুপালং ক্যাম্প ত্যাগ করেন। ভুক্তভোগী ফরিদুল আলম জানান, তাদেরকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী উপক’লের স্থানীয় দালাল জাবের আহম্মদের বাড়ীতে রাখা হয়। সেখান থেকে রাতের আধাঁরে সেন্টমার্টিনের অদুরে অপেক্ষমান ফিশিংবোটে পৌছে দেওয়ার জন্য নৌকায় তোলে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের জন্য অপেক্ষমান ফিশিংবোটের কোন হদিস না পাওয়ায় নৌকার মাঝি ওই ১৪ জন রোহিঙ্গাকে নাফ নদীর ঘোলাপাড়া এলাকায় নামিয়ে দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে।
টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর শরিফুল ইসলাম জোমরর্দার এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদেরকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। উখিয়ার উপক’লীয় ছেপটখালী এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান সিকদারের ছেলে আন্ডার ওয়াল্ড মানবপাচারকারীদের অন্যতম হোতা ফয়েজ প্রকাশ ফয়েজ দালাল, তার চেইন অব কমান্ড শরিফ মাষ্টারের ছেলে আবুল কালাম, সোনার পাড়া গ্রামের রেবি ম্যাড়াম, সোনাইছড়ি গ্রামের মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে মজিবুল হকসহ প্রায় ৫০ জন দালাল প্রায় সময় ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে মালেশিয়ায় পাড়ি জমানোর জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এমন তথ্যের সত্যতা রোহিঙ্গা ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম স্বীকার করেছেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, সমুদ্র উপক’লীয় এলাকায় সন্দেহভাজন অচেনা লোকজনদের তাৎক্ষনিক ভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share this post

scroll to top