বালুখালীর জাহাঙ্গীর সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে চলছে ইয়াবা পাচার – ৪ জনের হদিস নেই

ukhiya-pic-1-1.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া::

ইয়াবার শহর টেকনাফ পুলিশ অফিসার প্রদীপ দাশের দুঃসাহসিক ও আপোষহীন কামান্ডো ষ্টাইলে ধারাবাহিক অভিযানের প্রেক্ষিতে টেকনাফে ইয়াবার বাজার আগের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। ইয়াবা লেনদেনের বিরোধ ও পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯ জন ইয়াবা কারবারি মারা গেছে। বাকিরা প্রাণ ভয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে আত্মগোপন করেছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী উপজেলা উখিয়ায় কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম না হওয়ায় ইয়াবার আগ্রাসন বেড়েই চলছে।
উখিয়া সীমান্ত এলাকার পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় ইয়াবা পাচারকারীদের সাথে তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বালুখালীর আব্দুল মজিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৫) এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক গডফাদার রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াবা জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ (৩০) ২০১৬ সালের শেষের দিকে ইয়াবার চালান নিয়ে বিমান যোগে ঢাকা এয়ারপোটে অবতরণ করলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৫০ হাজার ইয়াবাসহ বখতিয়ার আহমদকে আটক করে।
রবিবার সরেজমিন ঘটনাস্থল বালুখালী এলাকা ঘুরে জানা যায়, এক সময়ের গাড়ীর হেলপার থেকে হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া এ বখতিয়ার টেকনাফের দুর্ধষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ক্রস ফায়ারে নিহত নূর মোহাম্মদের হাত ধরে রাতারাতি কোটিপতির তালিকায় নাম লেখান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তি জানান, তার রয়েছে ৫০ একরের মতো জমিজমা। একাধিক যানবাহন ও ফিশিং বোটসহ অঢ়েল সহায় সম্পত্তি। তার নবনির্মিত বাড়িটি দেখলে অবাক হওয়ার মতো কথা। বখতিয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ইয়াবা সিন্ডিকেটের হাল ধরেন তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম। তার নেতৃত্বে থাইংখালী রহমতেরবিল গ্রামের বদরুদৌজার ছেলে কলিমুল্লাহ লাদেন, হাকিম পাড়া গ্রামের মৃত ইলিয়াছের ছেলে সাহাব উদ্দিন, রহমতেরবিল গ্রামের আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান, মৃত ফরিদ আহম্মদ ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর বানু মেম্বারের ছেলে সোহেল, পন্ডিত পাড়া গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে হুমায়ুন, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রক লাদেন, রত্নাপালং ইউনিয়নের রুহুল্লার ডেবা গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ শীর্ষরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাড়িহাড়ি ইয়াবা নির্ভিঘ্নে পাচার করে যাচ্ছে। কালো ব্যবসার তাগিদে এরা রাতের বেলায় লোকালয়ে অবাধ বিচরণ করে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম জানান, প্রতি রাতে শতাধিক রোহিঙ্গার একটি দল স্থানীয় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রেজু আমতলীর ঢালা হয়ে সীমান্ত এলাকায় গভীর জঙ্গলে অবস্থান নেয়। মিয়ানমারের বিজিপি ও রাখাইন মাদক পাচার কারী চক্রের সদস্যরা অপেক্ষমান রোহিঙ্গাদের ইয়াবার চালান হাত বদল করে। পরে এসব ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। শনিবার সকালে বালুখালী পানবাজার থেকে স্থানীয় ৪ জন লোককে সাদা পোশাক ধারীরা ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হলেও কে বা কারা তাদের কোথায় নিয়ে গেছে সে ব্যাপারে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
উধাও হয়ে যাওয়া এসব ব্যক্তিরা হচ্ছে দক্ষিণ বালুখালীর নুর আহমদের ছেলে ছৈয়দ নুর (২৫), বালুখালী পূর্ব পাড়া গ্রামের মাস্টার ফজলুল হকের ছেলে জিয়াবুল হক বাপ্পী (২২), আমির হোসনের ছেলে শামশুল আলম (২৬) ও ইব্রাহিমের ছেলে ওসমান ড্রাইভার (২৮)। স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধূরী জানান, অস্ত্রধারী সাদা পোশাকে কিছু লোক তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনেছেন। কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, তিনি বালুখালীতে ৪ জন কে ধরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অবগত নন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না।
ইয়াবা পাচার ও সেবন প্রতিরোধে উখিয়া সার্কেলের নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট ইয়াবা পাচারকারীদের তথ্য পাওয়া গেলে উখিয়ায় মাদক পাচার ও প্রতিরোধ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি এব্যাপারে সাংবাদিকদের সহযোগীতা করার পরামর্শ দেন।

Share this post

scroll to top