রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন,নির্যাতনের কাহিনী শুনলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

pic-2.jpg

মাহমুদুল হক বাবুল উখিয়া ::

বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্টের নব নিযুক্ত রাষ্টদূত আল রবার্ট মিলারসহ ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রিত কোনার পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এসময় রাষ্ট্রদূত ক্যাম্প পরিদর্শন কালে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য বলেন, আমি বাংলাদেশে নতুন এসেছি, তাই তোমাদের দেখার জন্য এখানে এসেছি। তোমাদের সুখ দুঃখের কথা জানার জন্য। কথা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য বলেন, বাংলাদেশ সরকার তোমাদের নিরাপদে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আর্ন্তজাতিক বিশ^ ও জাতিসংঘের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেছে। যে কারনে মিয়ানমার তোমাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলছে। তোমাদের যদি বাড়ী ঘরসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে তোমরা রাখাইনে ফিরে যাবে কিনা? জবাবে ওই রোহিঙ্গা নেতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আমাদের এখানে আর এক মূহুর্থও থাকতে ইচ্ছে করছেনা। আমরা যে কোন সময়ে স্বদেশে ফিরে যেতে রাজি আছি। তবে মিয়ানমারে অবস্থানরত অন্যান্য জাতিগোষ্টির মত আমাদেরকেও সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাও আবার জাতিসংঘের সার্বিক নিরাপত্তার অধিনে।
পরে মার্কিন রাষ্টদূত দুপুর দেড়টার দিকে বালুখালী টিভি টাওয়ার সংলগ্ন ঘুমধুম ইউএনএইচ সিআর কর্তৃক নির্মিত ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পে সদ্য মিয়ানমার থেকে আসা ৯ সদস্যর দুই পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে চান, তারা কেন এসেছেন। এসময় মিয়ানমারের বুচিদং নাইক্ষ্যং পাড়া থেকে আসা আমান উল্লাহ (৫৫) জানান, সেখানে মিয়ানমার সেনা ও রাখাইন, উগ্রবাদী জনগোষ্টী পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে এনভিসি কার্ড নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। বাড়ী থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। যে কারনে তারা বাধ্য হয়ে এপারে চলে এসেছে। তাদের সাথে কথা বলার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বালুখালী ময়নারঘোনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের বেশ কয়েকটি থাকারঘর ঘুরে দেখেন। পরে ময়নারঘোনা ক্যাম্প ও ব্লকের ৫০ জন মাঝি ও ব্লক মাঝির সাথে কথা বলেন। মার্কিন রাষ্টদূত জানতে চান, তারা কেমন আছেন, জবাবে মাঝিরা বলেন তারা এখানে খুব ভাল আছেন। নিয়মিত ত্রান সামগ্রী পাচ্ছেন। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দিন কাটালেও তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্য আবু তাহের মাঝি জানান, কয়েকটি এনজিও সংস্থার দুমূখী আচরনের কারনে ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি। এজন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরাসরি জাতিসংঘের তত্ববধানে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদের সহায় সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত করলে রোহিঙ্গাদের এখানে কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবেনা। কারন স্বদেশের মায়া সবার আছে। এসময় রাষ্ট্রদূত তাদেরকে সম্মানের সাথে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ^স্থ করেন। এর আগে সকাল ১১ টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দরগাহবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্টের অর্থায়নে নির্মিত সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল ভবন পরিদর্শন করেন। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

Share this post

scroll to top