আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তের ইয়াবা গডফাদাররা বেপরোয়া

pic-uk-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে একটি সুন্দর গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে আইনশৃংখলাসহ এলাকার শান্তিশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক কর্মকর্তারা এলাকার শন্তি শৃংখলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার চিহ্নিত মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাড়িহাড়ি ইয়াবা পাচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দেশ ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী, এদেশে তাদের স্থান হতে পারে না বলে দাবী করেন। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও র‌্যাব ৭ কক্সবাজারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দোছড়ি গ্রামের হাজী আলী আহম্মদের ছেলে শীর্ষ ইয়াবাকারবারী আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা ইয়াবা জগতের কিং ও উখিয়া মসজিদ মার্কেটস্থ বিছমিল্লাহ টেলিকম সেন্টারের মালিক মাহমুদুল হক সিন্ডিকেটের দখলে বলে জানা গেছে। তার সিন্ডিকেটের অন্যান্যরা হচ্ছে, টিএন্ডটি লম্বাঘোনা এলাকার ইয়াবা সুন্দরী হিসাবে খ্যাত ম্যাডাম বেবী, থাইংখালী হাকিম পাড়া গ্রামের ইলিয়াছের ছেলে সাহাব উদ্দিন, ঘোনার পাড়া গ্রামের নুইজ্জ্যার ছেলে গোরা মিয়া, সম্প্রতি তার ৫২ হাজার ইয়াবা সোনার পাড়া এলাকার শীর্ষ ইয়াবাকারবারী জাগির হোসেন মাষ্টারের ছেলে লুৎফুর রহমান প্রকাশ লুইত্যা লুটপাট করেছে বলে জানা গেছে, রহমতেরবিল গ্রামের আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান প্রকাশ ইয়াবা শাহজান, পন্ডিত পাড়া গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে হুমায়ুন প্রকাশ ইয়াবা হুমায়ুন, মৃত কাদের বক্কুর ছেলে জয়নাল উদ্দিন ভুট্রো প্রকাশ ইয়াবা ভুট্রো, রহমতেরবিল এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ ইয়াবা আনোয়ার, পালংখালীর ইয়াবা রাসেল, জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইল পাড়া গ্রামের শীর্ষ ইয়াবা ডন ফজল কাদের, সোনার পাড়া বাজার এলাকার বদি আলম মাষ্টারের ছেলে ছমি উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা ছমি উদ্দিন, বালুখালী এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে জাহাঙ্গীর প্রকাশ ইয়াবা জাহাঙ্গীর, রতœাপালং ইউনিয়নের রুহুল্লার ডেবা গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর প্রকাশ ইয়াবা জাহাঙ্গীর, উখিয়ার টিএন্ডটি লম্বাঘোনা গ্রামের মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে মাহমুদুল করিম কোখা, উখিয়ার জাদিমোরা গ্রামের মোঃ হোছনের ছেলে কবির আহম্মদ প্রকাশ ইয়াবা কবির, ডেইল পাড়া গ্রামের শামশুল আলমের ছেলে আলী আকবর প্রকাশ লুডা আকবর, রহমতেরবিল গ্রামের শামশুল আলমের ছেলে হেলাল উদ্দিন,জাগির হোছনের ছেলে জামাল উদ্দিন, রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামের ছব্বির আহম্মদের ছেলে জসিম উদ্দিন, কুতুপালং গ্রামের রশিদ আহম্মদের ছেলে আলী আকবর, মরিচ্যার ইয়াবা আলমগীর, বালুখালী এলাকার নুরুল আলম ড্রাইভার, রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে নুরুল হাকিম, থাইংখালী জামতলী গ্রামের ইয়াবা রকিম, রাজাপালং ইউনিয়নের হিজোলীয়া এলাকার সিএনজি মোকতারসহ শীর্ষরা বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গডফাদারের নেতৃত্বে পুরো উখিয়ায় অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কারা ইয়াবা পাচার করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সমাজের ৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বা নজরদারির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আগামী প্রজন্ম খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আওতায় নিয়া আসা হবে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top