দেশ নৌবাহিনীতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে-রাষ্ট্রপতি

Screenshot_3-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

মিডশীপম্যান ও ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০১৮ বি ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পতেঙ্গা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রোববার (৯ ডিসেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৬ ব্যাচের ৫৯জন মিডশীপম্যান ও ২০১৮/বি ব্যাচের ৭ জন ডিইও সহ মোট ৬৬ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন।এদের মধ্যে ৪ জন মহিলা, ১জন মালদ্বীপ ও ১জন শ্রীলংকার কর্মকর্তা রয়েছেন।

সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে মিডশীপম্যান ২০১৬ ব্যাচের আহমেদ রিদওয়ান খান সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকস মিডশীপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

এছাড়া মিডশীপম্যান ইজাজ মাহমুদ শুভ প্রশিক্ষণে ২য় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডিইও ২০১৮/বি ব্যাচ থেকে অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট সাঈফ হোসেন শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী নৌসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন তার বক্তৃতায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সেই মহান প্রত্যয়ের আলোকেই বর্তমানে নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নৌবহরে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে চালু হয়েছে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের সুবিশাল বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স। আধুনিক এ প্রশিক্ষণ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নবীন কর্মকর্তাদের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন থেকে ২টি মিসাইল ফ্রিগেট এবং নির্মাণাধীন ২টি করভেট শীঘ্রই নৌবহরে যুক্ত হবে। একইসাথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করভেট, মাইনহান্টার, ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ভেসেল ও সেইলিং ট্রেনিং শিপসহ বিভিন্ন জাহাজ ক্রয় ও নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। নেভাল অ্যাভিয়েশনের জন্য মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্র্যাফট, অ্যান্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার ও লং রেঞ্জ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্র্যাফট ক্রয়ের পরিকল্পনা আছে।

তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ার লক্ষ্যে মিসাইল, আইএফএফ সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রকার আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কাজও চলমান। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ ঘাঁটি ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’ এবং ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ ঘাঁটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি ঢাকায় জাতির পিতার নামে প্রথমবারের মতো একটি নৌঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ মুজিব’ এর কমিশনিং এবং একইসাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২২টি বহুতল ভবন ও অবসরপ্রাপ্ত নৌসদস্যদের আবাসনের জন্য টাউনশীপ সাভার প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অন্যান্যের মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, নৌ সদর দপ্তরের পিএসও, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়ক সহ ঊর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নৌ কমান্ডোসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং শিক্ষা সমাপণী ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

Share this post

scroll to top