থাইংখালীতে এজাহার মিয়ার নেতৃত্বে ছোরাখোলা এলাকায় পাহাড়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন

pic-a-1.jpg

কায়সার হামিদ মানিক উখিয়া ::

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালীসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে এনজিও সংস্থা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলছে। বেড়ে গেছে বালির চাহিদা। স্থাপনা তৈরির অন্যতম উপকরন হিসাবে বালি ব্যবহ্নত হওয়ায় বালির পাহাড় এখন স্বর্ণের খনিতে পরিনত হয়েছে। বন বিভাগ ও প্রশাসনের আদেশ নির্দেশের কোন তোয়াক্কা না করে বালি উত্তোলন ও বাজারজাত করনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। পরিবেশ বাদীদের মতে, পাহাড় ছড়া নদনদী ও জ¦লাশয় থেকে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের ফলে জলজ প্রানী ও জীব বৈচিত্র বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থের হুমকির পাশাপাশি পরিবেশের মারাতœক অবনতি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে থাইংখালীর পশ্চিমে প্রায় ৩ কিলোমিটার অদুরে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা ছোরাখোলা নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই একর কৃষি জমির উপর উত্তোলিত বালির মজুদ করে পাহাড়সম করেছে। পাশেই বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। বনভুমির পাহাড় সংযুক্ত ছড়া থেকে অভিনব কায়দায় বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। সাংবাদিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে অবৈধ বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট মেশিন বন্ধ করে নিকটস্থ পাহাড়ে গা ঢাকা দেয়। পরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোরাখোলা গ্রামের মৃত তুরাফ আলীর ছেলে এক সময়ের কাঠুরিয়া এজাহার মিয়া দীর্ঘ এক যুগ ধরে বনের কাঠ কাঠা বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয় সাবেক মহিলা মেম্বার খুরশিদা বেগমের ছেলে চট্রগ্রাম এলাকায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েলের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ও স্থানীয় থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এব্যাপারে বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত এজাহার মিয়া জানান, বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে টাকা দিয়ে বালি উত্তোলন করছি। আমরা বালি উত্তোলন করে একা খাইনা? এ বালি বিক্রির টাকা সবার পকেটে যায় বলে সে দাবী করেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ আলী আকবর, দিল মোহাম্মদ, আলী মিয়া, সোনালীসহ আরো বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বালি সিন্ডিকেটের গডফাদার এজাহার মিয়া পাহাড়ের সাথে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে আমাদের চাষীজমি ও বসতভিঠা বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভারী যানবাহন দিয়ে এসব বালি পরিবহন করার ফলে গ্রামীন সড়ক অচল হয়ে পড়েছে। সেতু কালভার্ট যে কোন সময়ে ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার শংকা নিয়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। এসব বালি বেছা বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গ্রামবাসী জানান, সারা দিন ডেজার মেশিন চালিয়ে বালি উত্তোলন করলে দৈনিক ২/৩শ টাকার জ¦ালানি খরচ পড়ে। এ খাতে এক গাড়ী ১৫ টন ওজনের বালি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা করে। অল্প খরচে প্রচুর লাভবান হওয়ার ফলে তেলখোলা ছোরখোলা বালির পাহাড় এখন স্বর্ণের খনিতে পরিনত হয়েছে।
পরিবেশ বাদী সংস্থা কক্সবাজার মিডিয়া এন্ডভাইরেন্টমেন্ট ডেভলাপমেন্ট এর কনসাল্টটেন্ট বিশ^জিৎ দাশ বলেন, পাহাড় থেকে বালি উত্তোলনের ফলে জীব বৈচিত্র ও প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। এর পাশাপাশি জীব বৈচিত্র বিলুপ্ত হয়ে প্রানীকুল অস্থিত্ব সংকটে পড়ার ফলে জনস্বাস্থের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ বলেন, বালি দিয়ে স্থাপনা তৈরির কারন হিসাবে বালির চাহিদা অনেকগুন বেড়ে গেছে। সে জন্য সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন বালিমহল ইজারা দিয়ে বালির চাহিদা পূরন করছে। যারা অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করছে তারা দেশ ও জাতির মারাতœক ক্ষতি করছে দাবী করে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান সহ জানানোর অনুরুধ করেন। এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও আনুসাংঙ্গীক মালামাল জব্দ করার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সবে মাত্র কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বালি উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^স্থ গ্রহন করেন।

Share this post

scroll to top