উখিয়ায় সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যহত হওয়ার আশংকা

pic-2.jpg

মাহমুদুল হক ববুল উখিয়া ::

গত মৌসুমে উখিয়ায় বোরোর বাম্পার উৎপাদন হলেও চলতি মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ে বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। কৃষকদের ধারনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা হাজারেরো অধিক গভীর নলক’প স্থাপন করেছে। যার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ভুগর্ভস্থ পানির স্থর আশংকাজনক ভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। তাছাড়া নির্বিচারে পাহাড় কর্তন, গাছপালা ধ্বংসসহ বিভিন্ন প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট পরিবেশের উপর আঘাতজনিত কারনে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে মারাতœক সেচ সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশ বাদী সচেতন মহল।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ২৪ হাজার ৬শ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগ বালায় দূরীকরন প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। বোরো চাষে চাহিদামতো পানি নিস্কাসনের জন্য ১৮৬২ টি বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ও ১২৬ টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষন প্রকল্পের আওতায় কৃষক কৃষানিদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ২৭ হাজার ১৬১ জন প্রান্তিক ক্ষুদ্র বর্গা চাষীসহ পেশাদার কৃষকদের এ প্রশিক্ষনের আওতায় এনে তাদেরকে প্রশিক্ষন বাবদ দৈনিক ৫শত টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
এ উপজেলার বেশ কয়েকজন পেশাজীবি কৃষকের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, গত মৌসুমে বোরো যে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে চলতি মৌসুমে তা নাও হতে পারে। মাছকারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার এলাকা সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় আড়াই শতাধিক গভীর নলক’প স্থাপন করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। এসব গভীর নলক’পের কারনে তাদের বসতবাড়ীর অগভীর নলক’প গুলোর পানি শুকিয়ে গেছে। পালংখালীর তাজনিমারখোলা গ্রামের কৃষক আমানত উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের সুবিধার্থে বসানোগভীর নলক’পের কারনে পানির স্থর নিচে নেমে গেছে। সামনে খরা মৌসুমে মারাতœক পানি সংকট দেখা দিতে পারে। যার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চালিত সেচ পাম্প দিয়েও পানি সংকট দুর করা যাবেনা। এমন আশংকা নিয়ে শতশত কৃষক আশা নিরাশার দোলা চলে বোরো আবাদে নামলেও এসব কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে পানি সংকটের গভীর হতাশা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল জানান, এ উপজেলায় বিশেষ করে পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক যেসব গভীর নলক’প স্থাপন করা হয়েছে তার কারনে স্বাভাবিগত ভাবে পানির স্থর অত্যাধিক নিচে নেমে যেতে পারে। এসময় যদি বৃষ্টিপাত হয় তা হলে বোরোর তেমন কোন ক্ষতি হবেনা। তবে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, অনাবৃষ্টি ও খরাই ফসলের হানি হতে পারে।

Share this post

scroll to top