সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে স্থানীয় চাকুরীজীবি ছাটাই অভিযান

images-2.jpg

কায়সার হামিদ মানিক উখিয়া ::

উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবার নামে কর্মরত এনজিও সংস্থার যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ কর্তৃক গঠিত ৭ সদস্যের কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এনজিওরা তাদের অধীনে কর্মরত স্থানীয় কর্মজীবিদের গণহারে ছাটাই অভিযান শুরু করেছে। জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিও সংস্থা প্রায় ৫শতাধিক স্থানীয় কর্মজীবিকে কোন প্রকার অজুহাত ছাড়াই চাকুরী হারাতে হয়েছে। অনেকেই এনজিও সংস্থার এহেন আচরনের বিচার দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ভাবে সেবা প্রদান করে আসছিল স্থানীয় বেকার যুব সম্প্রদায়। অনেকেই মেধাবী সত্বেও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার মহান আকাংখা নিয়ে পড়া লেখা বাদ দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছে। এমনকি স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলারা ছেলে মেয়েদের মূখের অন্ন সংস্থানের জন্য ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বাড়ীতে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রচন্ড খরতাপ মাথায় নিয়ে গাধারমত খাঠুনি খেটেছে। হঠাৎ করে এসব চাকুরী জীবিদের চাকুরী চলে যাওয়ায় তাদের মাথায় যেন বাজ পড়েছে। প্রলাপ বাক্যেরমতো এসব কথা গুলো বলেলন এমএসএফএর চাকুরী হারানো বালুখালীর ছালাম উল্লাহ, দরগাহবিল গ্রামের অলিউল্লাহ, মিজানুর রহমান, কারিতাসের কনক বড়–য়া, মামুন, ইমরান চৌধুরীসহ ১৪ জন। এছাড়া কোডাকের তফন বড়–য়াসহ ৭ জন। এ্যাকশন এইড এর ফিল্ড সুপার ভাইজার তছলিমা জানান, সে দীর্ঘ দিন ধরে ওই এনজিও সংস্থায় নূন্যতম বেতন নিয়ে চাকুরী করে আসছিলেন। সম্পূর্ণ অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে তার স্থলে এ্যাকশন এইড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের আত্নীয় স্বজনকে চাকুরী দেওয়ার জন্য তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫শতাধিক স্থানীয় কর্মজীবিদের বাদ দিয়ে তাদের আত্নীয়স্বজনদের তদস্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকুরীচ্যুত স্থানীয় কর্মজীবিরা আরো জানান, প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে তাদেরকে কিছু দিন কর্মস্থল থেকে বিরত রাখে। এ সময়ের ভিতরে এনজিওদের আত্নীয় স্বজনেরা ওইসব পদে যোগদান করে ফেলে। পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও কোন লাভ হয়না।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক গঠিত এনজিও সংক্রান্ত নিয়োগ ও তদারকি কমিটির প্রভাবশালী সদস্য অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, এনজিওরা তাদের কোন কথার পাত্তা দেয়নি। উপরোন্ত স্থানীয়দের চাকুরীচ্যুত করে কমিটিকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে সমস্ত ছেলে মেয়েদের চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে পূনরায় নিয়োগ দিতে হবে। অন্যতায় ওইসব এনজিওর বিরুদ্ধে মরণ কামড় দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে আমাদের সার্বিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে আমাদের ছেলে মেয়েদের চাকুরীচ্যুত করা হবে তা কোন দিন মেনে নেওয়া হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী এনজিও সংস্থা এসব অনৈতিকতা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

Share this post

scroll to top