বালুখালীতে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে নগদ টাকা লুট

pic-11.jpg

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ::

উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার  রাত্রে এঘটনাটি ঘটেছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ক্রাইম জোন হিসাবে খ্যাত পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বালুখালী গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও অস্ত্রধারী আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে বদিউর রহমান সিকদারের ছেলে গাড়ী পুড়া মামলার আসামী সরওয়ার, আনোয়ার ও মোঃ হোসনের ছেলে মুন্নাসহ শীর্ষরা পূর্ব – পরিকল্পিত ভাবে একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত নজির আহম্মদ চৌধুরীর ছেলে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরীর আলিপ ট্রেডি দোকানে উল্লেখিত অস্ত্রধারীরা মঙ্গলবার রাত্রে দোকানের ক্যাশিয়ার শাহজানকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে ক্ষান্ত না হয়ে ফের দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক নুরুল আবছার চৌধুরী। নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, আলা উদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে তার অস্ত্রধারীরা প্রতিনিয়ত দোকানে এসে চাঁদা দাবী করে আসতো। আমি চাঁদা না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের ক্যাশিয়ারকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুট করেছে। শুধু তাই নয়, বুধবার বেলা ৩ টার দিকে একই এলাকার নুর আহম্মদের ছেলে টিসু এলাকায় ইন্টারনেট লাইন মেরামত কালে তার কাছ থেকেও লাইন প্রতি ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবী করেন। তাদের দাবীকৃত টাকা না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে বেদড়ক মারধর পূর্বক গুরুতর জখম করে মাটিতে ফেলেদেয়। এসময় আহতের শোর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে উখিয়া থানার এস আই মোরর্শেদ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার পাশাপাশি লম্বা কিরিচ,রাম দা, লোহার রডসহ ডজনখানিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। এস আই মোরর্শেদ জানান, দা, কিরিচ, লোহার রডসহ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উক্ত মালামালের সাথে জড়িত কে সেটা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করা হবে। উক্ত ঘটনায় নুরুল আবছার চৌধুরী বাদী হয়ে ৪ জনকে প্রধান আসামী করে উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, আলাউদ্দিন পুলিশ হওয়ার সুবাদে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্প্রতি ইয়াবার বৃহত্তর চালান নিয়ে বাশঁখালী থানা পুলিশের তৎকালিন সহকারী উপ-পরিদর্শক আনোয়ারের হাতে পুলিশ কনষ্টেবল আলাউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন চট্রগ্রাম জেল হাজত শেষে চাকুরীচ্যুত হয়ে নিজ গ্রাম বালুখালীতে ফিরে এসে ফের বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তির শীর্ষ ইয়াবাকারবারীদের সাথে আতাঁত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাড়িহাড়ি ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।
বালুখালী গ্রামের আবুছিদ্দিক জানান, পাশর্^বর্তী মিয়ানমারের শীর্ষ ইয়াবাকারবারী নজিবুল হক, চিকুইন্ন, সিরাজসহ শীর্ষদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদেরকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে সারা দেশ ব্যাপী লাখ লাখ পিস ইয়াবা পাচার করে গড়ে তোলেছে কালো টাকার পাহাড়। উক্ত কালো টাকার পাহাড় দিয়ে সে নামে বেনামে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার মতো গুরুত্ব পূর্ণ শহরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করেছে। বর্তমানেও আলাউদ্দিন পুলিশের নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ত্রানের চাউল ক্রয়ের নামে লুঠপাটের উৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা আলাউদ্দিনের মতো জঘন্য মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেপ্তার পূর্বক ক্রস ফায়ারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব ৭ কক্সবাজারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top