ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে স্বচ্ছল রোহিঙ্গারা

কায়সার হামিদ মানিক উখিয়া::

উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রীত স্বচ্ছল রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রন ও ক্যাম্প পালানোর প্রবনতা প্রতিরোধে সড়ক পথে বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ চেকপোষ্টে তল্লাশি অভিযান চলমান থাকলেও রোহিঙ্গারা কিভাবে ক্যাম্প ছাড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে ক্যাম্প পালানো রোহিঙ্গাদের খোজে বের করা সরকারের পক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই কোন রোহিঙ্গা যাতে ক্যাম্পের বাহিরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে আরো দায়িত্ববান হতে হবে। মঙ্গলবার সকালে যাত্রীবাহি গাড়ীতে করে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় মরিচ্যা ব্রীজে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর বেলায়েত জানান, রোহিঙ্গাদের ভাষাগত দিক, আচার আচারন, পোষাক পরিচ্ছদ স্থানীয়দের সাথে হুবহু মিল থাকার কারনে অনেক সময় রোহিঙ্গারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে উখিয়া টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। সরকার ছাড়াও ১৭৫টি এনজিও সংস্থা এসব রোহিঙ্গাদের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ত্রান সামগ্রী বিতরন করছে। উদ্বৃত ত্রানসামগ্রী রোহিঙ্গারা খোলা বাজারে বিক্রি করে তারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা নেতা ফয়সাল আনোয়ার, জাফর আলম জানান, জিরো থেকে স্বচ্ছল হয়ে উঠা এসব রোহিঙ্গারা বিদেশ পাড়িঁ জমানোর জন্য ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। কিছু কিছু রোহিঙ্গা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ভয়ে চলে যাচ্ছে। আবার অনেকেই দেশের শিল্প কারখানায় চাকুরীর লোভে দালালের মাধ্যমে ক্যাম্প ছাড়ছে। রোহিঙ্গা নেতারা জানান, গত ১৭ মাসে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়েছে। উখিয়া থানায় আটক ১৮জন রোহিঙ্গার মধ্যে কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর হাসিম, আনোয়ার ও বদি আলমের কাছে জানতে চাইলে, তারা যাবে কোথা এমন প্রশ্নের জবাবে, তারা বলেন, আতœীয় স্বজনের বাড়ীতে বেড়াতে যাচ্ছেন। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে স্থায়ী ভাবে এখানে বসাবাসের সুযোগ নিতে।

Share this post

scroll to top