বালুখালীতে ইয়াবা বুজুরুজের কালো টাকার পাহাড় দিয়ে নির্মিত হচ্ছে আলিশান ভবন

8.jpg

মাহমুদুল হক বাবুল উখিয়া ::

উখিয়া সদর হাজিরপাড়া গ্রামের মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে নুরুল আলম নুরু প্রকাশ দাড়ী নুরু। ৪৫ বছর বয়সী এ ব্যাক্তি পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, সদা হাস্যজ্জলমুখ, সকাল সন্ধা থানার সামনে, ষ্টেশনে তার বিচরন। এমনকি বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের পাশাপাশি পুলিশের সাথেও তার উঠাবসা। অথচ পুলিশ বিন্ধুমাত্র টেরপাইনি নুরু যে একজন পেশাদার ইয়াবাকারবারী। ঢাকায় কোন মামলা নেই, তবুও মামলার একটি কোর্টফাইল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হওয়ার জন্য বিমানের জন্য অপেক্ষা করছিল কক্সবাজার বিমান বন্দরে। সুচতুর র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে বেরিয়ে আসে কোর্ট ফাইলের আসল রহস্য। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, কোর্ট ফাইলের ভিতর থেকে প্রায় ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা হয়েছে।
অল্প পুজিতে প্রচুর লাভবান, স্বল্প সময়ে কোটিপতি, গাড়ী বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে শতশত নতুন মুখ ইয়াবা বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে নিয়মিত আটক হচ্ছে ইয়াবাকারবারী। উদ্ধার করা হচ্ছে ইয়াবা। পরবর্তীতে এদের অনেকেই বন্ধুকযুদ্ধে মারাও পড়ছে। তবুও থেমে নেই দেশ জাতি ও সমাজ ধ্বংসকারী ইয়াবার আগ্রাসন। রাজাপালং ইউনিয়নের খালকাছা পাড়া গ্রামের মোঃ হোছনের ছেলে কবির আহম্মদ (৩৫) পেশায় একজন খিলিপানের দোকানী। টেকনাফের শীর্ষ ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী পাটনার এই পানকবির রাতারাতি কোটিপতি, গাড়ীবাড়ি ও জমিজমার মালিক হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাধারন গ্রামবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশ্ন এতটাকা সে পেল কোথাই থেকে। টেকনাফে ধরপাকড় ও বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনায় যখন একেএকে ইয়াবাকারবারীরা মারা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই পানকবির ওমরা ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তখনও উখিয়া সদর রাজাপালং বটতলী ষ্টেশনে তার টাকায় একটি আলিশান বাড়ী নির্মানের কাজ চলছিল।
বালুখালী তেলীপাড়া গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রধান সড়ক সংলগ্ন, কারুকার্যে গড়ে উঠা বিশাল একটি ভবন। যে ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবুও মানুষ এই ভবন মালিক নিয়ে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করছে। দুদু মিয়া নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী, জিনি তার পারিবারিক বৈশিষ্টতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি জানান, এ গ্রামের এক সময়ের হতদরিদ্র শামশুল আলম সাওদাগরের ছেলে বুজুরুজ বাড়ীটি নির্মান করছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রয়েছে। এরকম ইয়াবাকারবারীর সংখ্যা নির্ণয় করা অনেকের সম্ভব হবেনা। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার সমাজকর্মী লিয়াকত আলী, উসমান গণিসহ আরো অনেকেই বলেন, ইয়াবাকারবারীদের অতীত আর বর্তমান সহায় সম্পক্তির ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। পূর্বাঞ্চলীয় মাদক বিরোধী সংগঠনের নেতা এড. এটি এম রশিদ আহম্মদ বলেন, ইয়াবার মাধ্যমে গজে উঠা অঢেল সহায় সম্পক্তি সরকারি কোষাঘারে নিয়ে যাওয়া হলে ইয়াবাকারবারীদের এ পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলনা। যেহেতু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রনে এক পায়ে খাড়া। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো ইয়াবার বাজারে পরিনত হয়েছে। এদের মাধ্যমে ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ, স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র- ছাত্রী। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্থ হচ্ছে ৮০ শতাংশ পরিবারের কোন না কোন সদস্য। এদের কারনে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিভাবকদের অভিমত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি অনুষ্টানে বলেছেন, কেউ ভাল হতে চাইলে তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারীরা প্রান বাচাঁতে আত্নসর্ম্পনের সুযোগ গ্রহন করছে। পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে, টেকনাফের ১৪০ জন ইয়াবাকারবারী। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজারে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে আত্নসর্ম্পনে অনুষ্টান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ওই অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা ১৪০জন ইয়াবাকারবারী ওই দিন আত্নসর্ম্পনে করবেন বলে বিভিন্ন গনমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, উখিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী না থাকলেও ইয়াবা পাচারে যেন শীর্ষ অবস্থায় উঠতে না পারে সে জন্য দমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আটক করা হচ্ছে ইয়াবার সাথে জড়িতদের। মামলা করা হচ্ছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে। তিনি বলেন, মাদক পাচার বিস্তৃত না হয়ে যেন নির্মুল হয় সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Share this post

scroll to top