আর কত লাশ পড়লে পাহাড় কাটা বন্ধ হবে?

pic-a-7.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

খাল, নদী, পাহাড় ও উর্বর কৃষিজমি বেষ্টিত উখিয়ায় পাহাড় কেটে প্রকৃতি ধ্বংসের লীলা খেলা কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর মানবিক সেবায় নিয়োজিত এনজিও সংস্থার বিশাল চাহিদাকে পুজি করে এলাকার এক শ্রেনীর পেশাদার পাহাড় খেকোর দল নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করে কাড়িকাড়ি টাকা আদায় করছে। ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি, জীব বৈচিত্র, পশুপ্রানী ও পরিবেশ। শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে থাইংখালী হাকিম পাড়া এলাকায় সরকারি বনভুমির পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার ওমর ফারুক (১৮) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে এবং এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের।
২৫ আগষ্টের পরে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন ও পালংখালী ইউনিয়নের ৫ হাজার একর বনভুমিতে আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দিকনির্দেশনায় আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় এগিয়ে আসে প্রায় ২ শতাধিক এনজিও। তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল নির্মানের জন্য প্রয়োজনের তাগিদে কিছু কিছু পাহাড় কেটে সমতল করা হয়েছিল। এসুযোগের সৎ ব্যবহার করে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড় কেটে মাটি পাচার শুরু করে। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থাইংখালী হাকিম পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২০/২৫ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক পাহাড় কেটে গাড়ীতে মাটি ভর্তী করছে। এসময় স্থানীয় সাংবাদিক দেখে রোহিঙ্গারা কাজ বন্ধ করে দেয়। জানতে চাওয়া হলে হাকিম পাড়া ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শ্রমিক অজিউল্লাহ (৪০), ছালামত উল্লাহ (৩৫), নুর মোহাম্মদসহ আরো বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, তারা পাহাড় কাটার কাজ করছে। এসময় শ্রমিক মাঝি শামশুল আলম (৩৫) জানান, এখানে প্রতিদিন থাইংখালী বিট কর্মকর্তা এসে পাহাড় খেকোদের সাথে কথা বলে চলে যেতে দেখা যায়। অপর দিকে, রাজাপালং বিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবীকে ডাম্পার প্রতি টাকায় ম্যানেজ করে হরিণমারা বাগানের পাহাড় এলাকায় শাহ আলমের ছেলে কামাল উদ্দিন, পিটিং বদু, বদি আলম ও উত্তর পুকুরিয়া এলাকায় মৃত আব্দুল গণির ছেলে টেকনাফ কলেজের প্রভাসক বেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সরকারি বনভুমির পাহাড় পাহাড় কেটে মাটি পাচারের মহোৎসব চললেও দেখার কেউ নেই। স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, আর কত লাশ পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গবে এবং পাহাড় কাটা বন্ধ হবে? উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমান জানান, পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে।

Share this post

scroll to top