উখিয়া সীমান্তের ৪ ইয়াবাকারবারী আটক – শীর্ষরা গ্রেপ্তার আতংকে

pic-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ায় পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে থাইংখালী ইয়াবা বাজারের ৪ গডফাদার কলিমুল্লাহ লাদেন, সোহেল, জামাল ও ফারুক আটক হলেও উক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জনক ও শীর্ষরা রয়ে গেছে ধরাছোয়ার বাহিরে। একের পর এক কারবারী আটক হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা গ্রেপ্তার আতংকে রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে বর্তমানে রাতের বেলায় থাইংখালী রহমতেরবিল সীমান্ত এলাকার মৎস্যঘের, রহমতেরবিল এলাকার সাইক্লোন সেন্টার ও বনে জঙ্গলে অবস্থান নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দেশ ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী, এদেশে তাদের স্থান হতে পারে না বলে দাবী করেন। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনাও করেন।
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবাকারবারী রহমতেরবিল গ্রামের বদরদৌজার ছেলে আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা ইয়াবা জগতের কিং কলিমুল্লাহ প্রকাশ ইয়াবা লাদেন, মৃত ফরিদ আহম্মদের ছেলে সোহেল, কলিমুল্লাহ বলির ছেলে জামাল ও মোঃ হোছনের ছেলে ফারুক সম্প্রতি আইনপ্রয়োগ সংস্থার হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে থাকলেও শীর্ষদের নেতৃত্বে থেমে নেই ইয়াবা পাচার। উক্ত ইয়াবার সাথে জড়িতরা হচ্ছে, বালুখালী জুমের ছড়া গ্রামের লম্বাপুতিয়ার ছেলে ফরিদ প্রকাশ ইয়াবা ফরিদ,দলিলুর রহমানের ছেলে রিয়াজুল হক প্রকাশ ইয়াবা রিয়াজ, একই এলাকার আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান প্রকাশ ইয়াবা শাহজান, আনর আলীর ছেলে মঞ্জুর, থাইংখালী নাজির হোসনের ছেলে মোস্তাক, হাকিম পাড়া গ্রামের মৃত ইলিয়াছের ছেলে সাহাব উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা সাহাব উদ্দিন, রহমতেরবিল এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ ইয়াবা আনোয়ার, রহমতেরবিল গ্রামের ছৈয়দ আলমের ছেলে জমির উদ্দিন, সিরাজুল হকের ছেলে শাহাজান, আবু ছিদ্দিকের ছেলে হেলাল প্রকাশ লাল পুতিয়া, মৃত কলিমুল্লার ছেলে হারুন প্রকাশ ইয়াবা হারুন, পালংখালী গয়ালমারা গ্রামের মৌলভী ইয়াছিনের ছেলে জামাল উদ্দিন, আনর আলীর ছেলে মঞ্জুর, থাইংখালী নাজির হোসনের ছেলে মোস্তাক, রহমতেরবিল গ্রামের কামাল উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা কামাল,পালংখালীর ইয়াবা রাসেলসহ শীর্ষরা দীর্ঘ দিন ধরে সাগর ও সড়ক পথে হাড়ি হাড়ি ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গডফাদারের নেতৃত্বে পুরো উখিয়ায় অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কারা ইয়াবা পাচার করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সমাজের ৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বা নজরদারির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আগামী প্রজন্ম খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আওতায় নিয়া আসা হবে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top