উখিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা আত্নসর্ম্পনে অনিচ্ছিুক

57-2.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগে মাদককারবারীদের আতœসর্ম্পন ও সংবর্ধণা। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন শীর্ষ ইয়াবাকারবারী আত্নসর্ম্পণ করেন। অনেক জল্পনা কল্পনার মধ্যে দিয়ে ফের আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং ছোট বড় ৩০ জন ইয়াবাকারবারী আত্নসর্ম্পনের সিদ্ধান্ত হলেও উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবাকারবারীরা আত্নসম্পর্ণ অনুষ্টানে অংশ গ্রহন করতে অনিচ্ছি বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গ্রেপ্তার ও আত্নসর্ম্পণ এড়াতে শীর্ষ ইয়াবাকারবারীরা বর্তমানে রাতের বেলায় পালংখালীতে অবস্থানরত তাজনিমারখোলা, হাকিমপাড়া, জামতলী বাঘঘোনা, সফিউল্লাহ ক্যাম্প, থাইংখালী রহমতেরবিল সীমান্ত এলাকার মৎস্যঘের, রহমতেরবিল এলাকার সাইক্লোন সেন্টার ও বনে জঙ্গলে অবস্থান নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দেশ ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী, এদেশে তাদের স্থান হতে পারে না বলে দাবী করেন। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন।
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী সীমান্তের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জনক কলিমুল্লা বলির ছেলে কামাল উদ্দিন, জামতলী গ্রামের ইউনুছ খলিফা, একই গ্রামের ইয়াবা রকিম, রতœাপালং ইউনিয়নের তেলী পাড়া গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, শীর্ষ ইয়াবাকারবারী ঘোনার পাড়া গ্রামের নুইজ্যার ছেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবাকারবারী জসিম উদ্দিন বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর আটক হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও তার ছোট ভাই গোরা মিয়া বর্তমানে জামতলী বাঘঘোনা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সরকারি বনের জায়গায় আলিশান বাড়ী নির্মান করে ওইখান থেকে হাড়িহাড়ি ইয়াবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। উখিয়ার তুতুরবিল গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে নুরুল হাকিম, টিএন্ডটির ম্যাডাম বেবী, বালুখালী শিয়াইল্লা পাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আকবর আহম্মদ প্রকাশ ইয়াবা আকবর, বালুখালী জুমের ছড়া গ্রামের লম্বাপুতিয়ার ছেলে ফরিদ প্রকাশ ইয়াবা ফরিদ,দলিলুর রহমানের ছেলে রিয়াজুল হক প্রকাশ ইয়াবা রিয়াজ, একই এলাকার আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান প্রকাশ ইয়াবা শাহজান, আনর আলীর ছেলে মঞ্জুর, হাকিম পাড়া গ্রামের হাছিম আলীর ছেলে নুরুল আমিন মেম্বার ও তার ছোট ভাই রুহুল আমিন, হাকিম পাড়া গ্রামের মৃত ইলিয়াছের ছেলে সাহাব উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা সাহাব উদ্দিন, রহমতেরবিল এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ ইয়াবা আনোয়ার, রহমতেরবিল গ্রামের ছৈয়দ আলমের ছেলে জমির উদ্দিন, সিরাজুল হকের ছেলে শাহাজান, আবু ছিদ্দিকের ছেলে হেলাল প্রকাশ লাল পুতিয়া, মৃত কলিমুল্লার ছেলে হারুন প্রকাশ ইয়াবা হারুন, পালংখালী গয়ালমারা গ্রামের মৌলভী ইয়াছিনের ছেলে জামাল উদ্দিন, আনর আলীর ছেলে মঞ্জুর,রহমতেরবিল গ্রামের মৃত মকতুল হোসনের ছেলে কামাল উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা কামাল, পালংখালীর ইয়াবা রাসেলসহ শীর্ষরা দীর্ঘ দিন ধরে সাগর ও সড়ক পথে হাড়ি হাড়ি ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গডফাদারের নেতৃত্বে পুরো উখিয়ায় অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কারা ইয়াবা পাচার করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে, তাদের সম্পর্কে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সমাজের ৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বা নজরদারির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আগামী প্রজন্ম খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আওতায় নিয়া আসা হবে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top