উখিয়ায় সামাজিক অস্থিরতার নেপথ্যে ইয়াবার অবাধ প্রচলন

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

স্ত্রীকে গলা কেটেঁ শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, অবাধ্য ছেলের হাতে বয়বৃদ্ধ পিতা-মাতা লাঞ্চিত, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন প্রভৃতির লোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে ইয়াবা সেবনকে দায়ী করলেন এলাকার সচেতন নাগরিক। তারা বলছেন, ইয়াবার কারনে স্কুল, কলেজ

ছাত্রীরা নিরাপদ নয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে পাশে বা পথিমধ্যে ইয়াবা সেবনকারীরা ছাত্রীদের বিরক্ত করছে। এতে করে সামাজিক পরিবেশ দিন দিন অবক্ষয়ের পথে ধাবিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তোলন পেতে হলে ইয়াবা সংশ্লিষ্টদের ভ্রাম্যমান আদালত না করে তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা প্রয়োজন। পুলিশ বলছে, উখিয়ায় আত্বগোপনে থাকা ইয়াবা কারবারিদের তালিকা ও তাদের অলৌকিক সহায় সম্পত্তি তথ্য উপাত্ত্ব সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি উখিয়া থানা পুলিশ উখিয়া সদর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে পরিত্যাক্ত একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলায় মত্ত ৫ জন যুবককে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, সেখানে ইয়াবা সেবনের বেশ কিছু উপকরন পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি তার বাসা থেকে ইয়াবা সেবনকারীদের অবাধ বিচরন, ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলা প্রত্যক্ষ করে আসছিল বেশ কয়েকদিন থেকে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনকারীদের আটক করে।উখিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি বলেন মোহাম্মদ এমামুল এহসান বলেন, তাকে প্রতিদিন কয়েকটা ইয়াবা সেবনকারী, কারবারী, খুচরা বিক্রেতাসহ ইয়াবা সম্পৃক্ত মারামারির ঘটনা নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতে হয়। তিনি বলেন, ইয়াবার কারনে বর্তমানে উখিয়ার সামাজিক প্রেক্ষাপটের দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রান পেতে হলে এলাকার সুধী সমাজকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা আসার পূর্বে এ ধরনের ইয়াবার প্রচলন, ব্যবহার ছিল না। ছিল না কোন উত্তপ্ত পরিবেশ। রোহিঙ্গারা এখানে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে ইয়াবার প্রচলনটা হু হু করে বেড়ে গেছে। কারন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে আরাম আয়েশ করে ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা রেখেছে রোহিঙ্গারা। ইয়াবা সেবন করতে গিয়ে প্রেমের ফাদেঁ পড়ে রোহিঙ্গা নারীদের সাথে স্থানীয়দের বিয়েও হচ্ছে অহরহ। এসব কারনে সন্ধ্যা নামার সাথে বালুখালী জগৎটা ভিন্ন প্রকৃতির ভয়াবহ আকার ধারন করে। তিনি বলেন, নাফ নদীর আশে পাশে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা ও কতিপয় স্থাণীয়দের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট মহড়া চালায়। জানা গেছে, তারা ওপার থেকে আসা ইয়াবার চালানের জন্য সেখানে অপেক্ষা করে থাকে। এতে করে গ্রামীন সুন্দর ও সামাজিক পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে বলে তিনি দাবী করছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ইয়াবার সাথে সম্পৃক্তদের মোবাইল কোট না করে তাদের বিরুদ্ধে মাদক প্রতিরোধ আইনে মামলা করার প্রয়োজন। ইয়াবা প্রতিরোধে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে উখিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশের উপর কোন বিরুপে প্রভাব না পড়ে।

উখিয়া থানা ওসি তদন্ত নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ইয়াবার মাধ্যমে হাতে কড়ি, রাতারাতি অলৌকিক সম্পত্তির মালিকদের তালিকা করা হচ্ছে। তারা যেখানে যে অবস্থায় থাকুক না কেন, হয় পুলিশের কাছে আত্বসমর্পন করতে হবে নয়তো বা তাদেরকে পুলিশ যেকোন উপায়ে খুজে বের করবে।

Share this post

scroll to top