ইনানী পুলিশের অভিযানে ছলিমুল্লাহ মেম্বারের ছেলেসহ ১৪ মালয়েশিয়া যাত্রী আটক

o.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

আর কত লাশ পড়লে উখিয়া – টেকনাফ সাগর পথে মানব পাচার বন্ধ হবে? উখিয়ার ইনানী পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই দালালসহ ১৪ মালয়েশিয়া গামী যাত্রীকে আটক করেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইনানী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিদ্ধার্থ সাহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইনানী ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সাগর পাড় দিয়ে যালয়েশিয়া যাত্রাকালে অভিযান চালিয়ে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বড় ইনানী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ছলিমুল্লাহ মেম্বারের ছেলে আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা শীর্ষ মানব পাচারকারী ও একাধিক মামলার আসামী সোয়েব ও তার চেইন আব কমান্ড দক্ষিন নিদানিয়া গ্রামের মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে নুরুল আমিন (৪২)সহ ১৪ রোহিঙ্গা যাত্রীকে আটক করে। আটককৃত হলেন, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুল মজিদের ছেলে হোছন আহম্মদ (১৯), কামাল হোসনের ছেলে রাশেল (১৮),থাইংখালী ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে নুরুল আমিন (১৬), কুতুপালং ক্যাম্পের মোঃ ইসলামের ছেলে জিহাদ উল্লাহ (১৬), বালুখালী ক্যাম্পের মৃত আব্দুল হামিদের মেয়ে হামিদা বেগম (১৮), কুতুপালং ক্যাম্পের নুরুল হাকিমের মেয়ে রুমা আক্তার (১৮),কুতুপালং ক্যাম্পের মৃত মোঃ ছিদ্দিকের মেয়ে হাছিনা আক্তার (১৮), টেকনাফ জাদিমোরা গ্রামের আলী হোসনের মেয়ে পারভিন আক্তার (১৮), উনচি প্রেং ক্যাম্পের আবু তালেবের মেয়ে লায়লা বেগম (১৮), কেরুনতলী ক্যাম্পের মোঃ সেলিমের মেয়ে শাহিনা বেগম (১৮), কুতুপালং ক্যাম্পের আবুল কালামের মেয়ে তাহমিনা (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের জাফর আলমের মেয়ে জান্নাত আরা (২০), কুতুপালং ক্যাম্পের ইউছুপের মেয়ে ছেনেয়োরা বেগম ও একই ক্যাম্পের এমদাদুল হকের ছেলে ফাহিম।
স্থানীয় আবু ছিদ্দিক জানান, ছলিমুল্লাহ মেম্বারের ছেলে সোয়েব ও তার ঘনিষ্ট সহচর নুরুল আমিন একটি বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী -পুরুষদের রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সোয়েবের নিজস্ব দুইটি বোট দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া পাচার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার পাচার কাজে বাধা প্রদান করিলে হত্যার ভয়ভীতিসহ মিথ্যা মামলার হুমকি ধমকিও দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি ১৩৮ যাত্রী নিয়ে গত মঙ্গলবার সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিনের অদুরে পাথরের সাথে ধাক্কা লেগে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২ জনের লাশ ও ৭১ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোষ্টগার্ড সেন্টমার্টিন ষ্টেশনের কমান্ডার লে: নাঈমু উল হক।
মঙ্গলবার উখিয়াস্থ উপক’লীয় এলাকা ঘুরে বেশ কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া পাচারকালে সেন্টমার্টিন এলাকায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় উপক’লীয় এলাকার শীর্ষ মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার আতংকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বনে জঙ্গলে আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানা গেছে। উক্ত মানব পাচারকারীরা হচ্ছে, উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেপটখালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান সিকদারের ছেলে ফয়েজ প্রকাশ ফয়েজ দালাল ও তার চেইন অব কমান্ড একই গ্রামের শরিফ মাষ্টারের ছেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টেন্ডার বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে আতাঁত করে সাফ কন্ট্রাকে কাজ নেওয়ার অজুহাতে কৌশলে শতশত রোহিঙ্গা যুবক যুবতীদের অল্প খরচে মালয়েশিয়া পাচারের মেশিন নিয়ে মাঠে আবুল কালাম প্রকাশ কালাম দালাল, উত্তর সোনার পাড়া গ্রামের কাদির হোসনের ছেলে কালা জমির, ম্যাডাম বেবী, একই ইউনিয়নের ডেইল পাড়া ঘোনার মোড় এলাকার লেং শামশুর ছেলে শাহাজান দালাল, সোনাইছড়ি গ্রামের রুস্তম আলী, একই গ্রামের আব্দুল্লাহ, ছিদ্দিক আহম্মদ, মনখালী গ্রামের ফেসুক্রুরী, সোনাইছড়ি গ্রামের মজিবু হকসহ শীর্ষরা চরম আতংকে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিমূলে ব্যস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানব পাচারকারীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, অতিশিঘ্রই মানব পাচারের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা না হলে এলাকার উঠতি বয়সী যুবক, যুবতী ও ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এব্যাপারে উখিয়া থানার নবাগত ওসি মর্জিনা আক্তার মর্জিয়া বলেন, আটক দালালদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এবং উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা নারী – পুরুষদের স্ব-স্ব ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top