থাইংখালী সীমান্তে থেমে নেই ইয়াবা পাচার – বেপরোয়া কারবারীরা

03.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

টেকনাফে ইয়াবা কারবারীদের দুই দুইবার আত্নসমপূর্ণ অনুষ্টান অনুষ্টিত হলেও উখিয়া সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত কারবারিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কঠিন কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অল্প পুজিতে প্রচুর লাভবান, স্বল্প সময়ে কোটিপতি, গাড়ী বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে শতশত নতুন মুখ ইয়াবা বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে নিয়মিত আটক হচ্ছে ইয়াবাকারবারী। উদ্ধার করা হচ্ছে ইয়াবা। পরবর্তীতে এদের অনেকেই বন্ধুকযুদ্ধে মারাও পড়ছে। তবুও থেমে নেই দেশ জাতি ও সমাজ ধ্বংসকারী ইয়াবার আগ্রাসন। পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী জামতলী গ্রামের ইউনুছ খলিফা (৩০) প্রকাশ ইয়াবা খলিফা। সে পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। টেকনাফের শীর্ষ ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারীর পাটনার হয়ে ইউনুছ রাতারাতি কোটিপতি, ডাম্পার গাড়ী ও জমিজমার মালিক হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাধারন গ্রামবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশ্ন এতটাকা সে পেল কোথাই থেকে।
থাইংখালী রহমতেরবিল গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আনর আলীর ছেলে মঞ্জুর। সে চট্রগ্রামস্থ কর্ণফুলী নদীতে বোট মিস্ত্রির কাজ করে কোন রকম সংসার জীবন চালিয়ে আসতো। সে হঠাৎ ইয়াবার বদৌলতে রাতরাতি বনে গেছে কোটিপতি। ক্রয় করেছে একাধিক ডাম্পার ও নোহা গাড়ী। দুদু মিয়া নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী, জিনি তার পারিবারিক বৈশিষ্টতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি জানান, থাইংখালী গজো ঘোনা গ্রামের এক সময়ের হতদরিদ্র নুর মোহাম্মদ প্রকাশ নুইজ্যার ছেলে গোরা মিয়া ইয়াবা ব্যবসার বদৌলতে একাধিক বিয়ে, একাধিক গাড়ী, বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার জায়গা জমি ক্রয় করেছে। থাইংখালী সড়কের পূর্ব পাশে বাড়ীটি নির্মান করছে গোরা মিয়া। তার বড় ভাই জসিম উদ্দিন ও বিপুল পরিমান ইয়াবার চালান আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। গোরা মিয়া বর্তমানে জামতলীস্থ তার ২য় স্ত্রী কাছে থাকেন এবং ওই খানেও ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় দিয়ে আলিশান ভবন নির্মান করেছে বলেও জানা গেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রয়েছে। এরকম ইয়াবাকারবারীর সংখ্যা নির্ণয় করা অনেকেরই সম্ভব হবেনা। ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি আট্রালিকা সম্পদের মালিক হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাই কোন মামলা না থাকায় পুলিশ তাদের আটক করতে হিমশিম খাচ্ছে। তারা কিন্তু এলাকায় সাদু সেজে সমস্ত মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য নুরুল আমিন রয়েছে আত্নগোপনে। তার ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রন ও মেম্বারি দায়িত্ব পালন করছে তার ছোট ভাই আরেক ইয়াবাকারবারী রুহুল আমিন।
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে উখিয়ার খয়রাতি গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে আতাউল্লাহ, জামতলী গ্রামের ইউনুছ খলিফা, একই গ্রামের ইয়াবা রকিম, রত্নাপালং ইউনিয়নের তেলী পাড়া গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, উখিয়ার তুতুরবিল গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে নুরুল হাকিম, টিএন্ডটির ম্যাডাম বেবী, বালুখালী শিয়াইল্লা পাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আকবর আহম্মদ প্রকাশ ইয়াবা আকবর, বালুখালী জুমের ছড়া গ্রামের লম্বাপুতিয়ার ছেলে ফরিদ প্রকাশ ইয়াবা ফরিদ,দলিলুর রহমানের ছেলে রিয়াজুল হক প্রকাশ ইয়াবা রিয়াজ, একই এলাকার আহম্মইদ্যার ছেলে শাহজান প্রকাশ ইয়াবা শাহজান, হাকিম পাড়া গ্রামের মৃত ইলিয়াছের ছেলে সাহাব উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা সাহাব উদ্দিন, রহমতেরবিল এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ ইয়াবা আনোয়ার, রহমতেরবিল গ্রামের ছৈয়দ আলমের ছেলে জমির উদ্দিন, সিরাজুল হকের ছেলে শাহাজান, আবু ছিদ্দিকের ছেলে হেলাল প্রকাশ লাল পুতিয়া, মৃত কলিমুল্লার ছেলে হারুন প্রকাশ ইয়াবা হারুন, পালংখালী গয়ালমারা গ্রামের মৌলভী ইয়াছিনের ছেলে জামাল উদ্দিন, রহমতেরবিল গ্রামের মৃত মকতুল হোসনের ছেলে কামাল উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা কামাল, পালংখালীর ইয়াবা রাসেলসহ শীর্ষরা দীর্ঘ দিন ধরে সাগর ও সড়ক পথে হাড়ি হাড়ি ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গডফাদারের নেতৃত্বে পুরো উখিয়ায় অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার সমাজকর্মী লিয়াকত আলী, উসমান গণিসহ আরো অনেকেই বলেন, ইয়াবাকারবারীদের অতীত আর বর্তমান সহায় সম্পক্তির ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। পূর্বাঞ্চলীয় মাদক বিরোধী সংগঠনের নেতা এড. এটি এম রশিদ আহম্মদ বলেন, ইয়াবার মাধ্যমে গজে উঠা অঢেল সহায় সম্পক্তি সরকারি কোষাঘারে নিয়ে যাওয়া হলে ইয়াবাকারবারীদের এ পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলনা। যেহেতু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রনে এক পায়ে খাড়া। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো ইয়াবার বাজারে পরিনত হয়েছে। এদের মাধ্যমে ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্থ হচ্ছে ৮০ শতাংশ পরিবারের কোন না কোন সদস্য। এদের কারনে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিভাবকদের অভিমত।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মরর্জিয়া আক্তার মরজু, মাদক ও মানব পাচার কারীদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করেন এবং মাদক কারবারী সে যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top