উখিয়ার সাগর পথে চলছে মানব পাচারের উৎসব – জড়িত জনপ্রতিনিধি

08.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল সাগর পথে আর কত লোক মরলে মালয়েশিয়া মানব পাচার বন্ধ হবে? এমন কোন রাত নেই উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি বাদমতলী, ডেইলপাড়া, ছোট ইনানী, মোঃ শফিরবিল, ইমামের ডেইল, ছোয়াংখালী ঘাট, মাদারবনিয়া ঘাট, ছেপটখালী ও মানখালী ঘাট দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী ও মানব পাচারকারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে শতশত রোহিঙ্গা যুবক ও যুবতীদের মোটা অংকের বিনিময়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ডের চকিদার মঞ্জুর আলম জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল মেম্বারের নেতৃত্বে ছোয়াংখালী গ্রামের কালুর ছেলে বেলাল, মাদারবনিয়া গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল, তেলখোলায় অবস্থানরত মনিয়া ডাকাত,মাদারবনিয়া গ্রামের মোঃ ইলিয়াছের ছেলে নুরুল কবির, একই গ্রামের হাজী কবির আহম্মদের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা কারবারী মন্সুর আলম, ইমামের ডেইল গ্রামের মোঃ আলমের ছেলে নুরুল আমিন, মৃত এন্ডা হোসনের ছেলে নুরুল আলম, আবু সাওদাগরের শালীর জামাই জিয়উর রহমান প্রকাশ বর্মাইয়া জিয়াসহ শীর্ষরা ছোয়াংখালী ঘাট দিয়ে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা যুবতীকে মালয়েশিয়া পাচার করে। খবর পেয়ে সে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাচারের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গা যুবক যুবতী ও বেলাল দালালকে আটক করলে। এসময় স্থানীয় মোজাম্মেল মেম্বার লোক ও দালালকে ছাড়িয়ে দিতে বলে এবং তাকে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে তার সাথে থাকা হেলালসহ তাকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন বলে তিনি প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
স্থানীয় আবুল হোসেন জানান, ছোয়াংখালী, মাদারবনিয়া ও ইমামের ডেইল এলাকা দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল মেম্বারের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া মানব পাচার অব্যাহত রয়েছে। বোটে লোক উঠার জায়গা না থাকলে বা সকাল হয়ে গেলে ও স্থানীয় লোকজন দেখলে সে ফী¬ম ষ্টাইলে পুলিশ হাতে লোকগুলো সোপর্দ করে সাধু সাজে। তিনি আরো বলেন, অচিরেই মোজাম্মেল মেম্বারসহ সিন্ডিকেটের লোকজনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নিলে তাহলে মানব পাচার বন্ধ করা কখনো সম্ভাব হবে না।
গত রোববার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা শীর্ষ মানব পাচারকারী আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা যুবতী সংগ্রকারী বর্তমানে তেলখোলা এলাকায় অবস্থানকারী মনিয়া ডাকাত,ছোয়াংখালী গ্রামের নজির আহম্মদের ছেলে মোকতার মিয়া, মাদারবনিয়া গ্রামের আমান উল্লাহসহ শীর্ষরা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহায়তায় মাদারবনিয়াস্থ নৌকার ঘাট এলাকা দিয়ে রোববার রাতে দুইশতাধিক রোহিঙ্গা যুবতী সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোর হয়ে যাওয়া ও বোট সংকটের কারনে বাকী ৮ জন রোহিঙ্গা যুবতীকে মালয়েশিয়া পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এসময় স্থানীয় চকিদারের সহায়তায় মজুদকৃত রোহিঙ্গা যুবতীদের থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। খবর পেয়ে ইনানী কোষ্ট গার্ডের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌছে মানব পাচার কাজে নিয়োজিত আব্দুল জলিলের একটি বোট জব্দ করে। উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা যুবতীরা হলেন, থাইংখালী তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের মৃত আব্দুল লতিফের মেয়ে নুর বেগম, বালুখালী ক্যাম্পের আব্দুস ছালামের মেয়ে সাদেকা বিবি, বালুখালী ক্যাম্পের ইউনুছের স্ত্রী সাজিদা বিবি, একই ক্যাম্পের ছৈয়দ আলমের মেয়ে মরিয়ম বিবি, লম্বাশিয়া ক্যাম্পের উসমান জুহারের স্ত্রী আছিয়া বিবি, বালুখালী ক্যাম্পের আব্দুস ছালামের মেয়ে ছেনোয়ারা বিবি, বালুখালী ক্যাম্পের আব্দুস ছালামের ছেলে রহিম উল্লাহ একই ক্যাম্পের হাবিবুল্লার ছেলে আরাফাত উল্লাহ, মরিচ্যা বাজার থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর আলমের সহায়তায় উদ্ধারকৃতরা হলেন, ক্যাম্প ১১ এর বাসিন্দা মৃত শামশুল আলমের মেয়ে সফুরা, ক্যাম্প ১০ এর বাসিন্দা মৃত হোসন আহম্মদের মেয়ে সফিকা, ক্যাম্প ১৫ এর বাসিন্দা মৃত কামাল হোসনের মেয়ে তাছলিমা, ক্যাম্প ১১ এর বাসিন্দা মৃত হোসন আহম্মদের মেয়ে নুর কায়েস।
স্থানীয় আবু ছিদ্দিক জানান, আব্দুল জলিল একটি বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী -পুরুষদের রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তার নিজস্ব দুইটি বোট দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া পাচার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার পাচার কাজে বাধা প্রদান করিলে হত্যার ভয়ভীতিসহ মিথ্যা মামলার হুমকি ধমকিও দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি ১৩৮ যাত্রী নিয়ে গত মঙ্গলবার সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিনের অদুরে পাথরের সাথে ধাক্কা লেগে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২ জনের লাশ ও ৭১ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোষ্টগার্ড সেন্টমার্টিন ষ্টেশনের কমান্ডার লে: নাঈমু উল হক।
সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিমূলে ব্যস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানব পাচারকারীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, অতিশিঘ্রই মানব পাচারের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা না হলে এলাকার উঠতি বয়সী যুবক, যুবতী ও ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মর্জিয়া আক্তার মরজু বলেন, উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা নারী – পুরুষদের স্ব-স্ব ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top