উখিয়ার জারাইলতলিতে পাহাড় কেটে বালি উত্তোলন অব্যাহত

Ukhiya-Pic-14.03.2020.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়া থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সদর বিটের আওতাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের জারাইলতলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পাহাড় ঢিলার উপরে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন কয়েকটি দোকানঘর। ওই দোকানে বসে আছে ২/৩ জন স্থানীয় লোকজন। সাংবাদিক দেখে ডাক দিলেন এদিকে আসেন। আমরাও তার কথা মতো সেখানে গেলে আমাদের কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করে বলেন, ভাই ২/৩ গাড়ি বালু বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। আমাদের পেটে লাথি মারিয়ান না। এখান থেকে বিট অফিসারকে পাহাড় কাটার পয়েন্ট প্রতি মাসিক ৩ হাজার টাকা মাসুহারা ও বিভিন্ন খাতে দালাল ফড়িয়াদের টাকা হয়। না দিলে বালু সরবরাহে বাধাঁ দেয়। এসব কথা বলার পর আমাদেরকেও সে কিছু টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে। তথাপিও আমরা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে বালি উত্তোলনের ছবি ধারণ করে পত্রিকায় প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলাম।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় এলাকার বেশ কয়েকজন লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ছব্বির আহমদ, নুর মোহাম্মদ বলি, আলমগীর, হেডম্যান ইব্রাহিম, বাবুল, বার্মাইয়া কাশেম, ফজর রহমানের ছেলে কাশেম, ইসমাঈল, হাসান আলী, চেংখোলা গ্রামের ডাম্পার মালিক আলমগীরসহ প্রায় ১৮/২০ জনের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্বিচারে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানে আলম, দুদু মিয়া ও শফি আলম সহ একাধিক লোকজন জানান, তারা এসব অবৈধ পাহাড় কাটা বালি সরবরাহের জন্য স্থানীয় লোকজনের জমিজমা, বসতভিটা ও পাহাড় কেটে গাড়ী যাওয়ার রাস্তা করেছে। তাদের এই বালি উত্তোলনের টার্গেট ছোট খাল ও বড় খাল পর্যন্ত বলে জানা গেছে। প্রতি নিয়ত শত শত গাড়ী বালি উত্তোলনের ফলে এক দিকে যেমন সরকার লাখ লাখ রাজস্ব হারাচ্ছে একই ভাবে মারাত্মক পরিবেশ দূষনের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে দাবী গ্রামবাসী।
পরিদর্শনকালে এনজিও সংস্থা টিকার এক কর্মকর্তার সাথে দেখা হয়। সে জানায়, এ প্রতিবেদক যতদূর যেতে পেরেছে তার একটু অদূরে তার যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে বেশ কিছু পরিমাণ হাতি দেখা গেছে বলে সে জানালে এ প্রতিবেদকের আর বেশি দুর যেতে সাহস হয়নি। সেখানে ১২টা হাতির মধ্যে বেশ কয়েকটা বাচ্চা হাতিও রয়েছে বলে গ্রামবাসী জানান। এ হাতিগুলো বালি উত্তোলন কারীদের কারনে আবাসস্থল হারিয়ে দিক বেদিক ছুটাছুটি করে মানুষের আবাসস্থলে হানা দিয়ে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উখিয়া সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে যেখানে জীববৈচিত্র্য থাকার কথা। সেখানে বালু উত্তোলনের মহোৎসব দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে গেছে। তারা বলছে পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল, শ্রেণি পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও ধুলোবালির কারণে এলাকার পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নাজেহাল করা হয়। এব্যাপারে উখিয়া সদর বনবিট কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পাহাড় কাটার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
ইতিপূর্বে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমানের সাথে অবৈধ বালি উত্তোলনের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার আলাপ হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উখিয়ার বনবাগান সৃজন ও উন্নয়নের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে পারা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত পাহাড় কেটে মাটি ও বালি পাচার করছে। এব্যাপারে বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহে উখিয়া সহকারি কমিশনার ভূমি আমিমুল এহসান খানের নেতৃত্বে সহকারি বন সংরক্ষক, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ান ও বনকর্মীসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি স’মিল উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভাবে বালি উত্তোলনের ব্যাপারে যতদ্রুত সম্ভব মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Share this post

scroll to top