উখিয়ার মনখালীতে মানব পাচারকারীদের হুমকির মুখে এলাকা ছাড়া অসহায় পরিবার

32.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

জেলার ক্রাইম জোন নামে খ্যাত উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গর্জনবনিয়া গ্রামের একটি অসহায় পরিবার আবুল কালাম বাহিনীর অব্যাহত হুমকির মূখে জিম্মি দষায় জীবন যাপন করার পাশাপাশি এলাকা ছাড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরজমিন গর্জনবনিয়া ঘুরে এলাকার বেশ কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গর্জনবনিয়া গ্রামের নুর হোসনের ছেলে মহিব উল্লাহ (২৫) দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের মনখালী বটতলী গ্রামের জাফর আলমের ছেলে আবুল কালামের মাছ ধরার বোটে শ্রমিকের কাজ করে আসছিল।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া মানব পাচার শুরু হওয়ার পর থেকে মহিব উল্লাহকে মানব পাচারের যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। মহিব উল্লাহ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া না যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্দ হয়ে ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মহিব উল্লাকে জোরপূর্বক তার বাড়ীতে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহিবুল্লাহ। আহতের শোর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে মানব পাচারকারীর কবল থেকে আহতকে উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এবং মহিব উল্লাহ বাদী হয়ে আবুল কালামকে প্রধান আসামী করে উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন বলে মহিবুল্লাহ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মহিবুল্লাহ জানান, আদালত বা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা বা কোন প্রকার অভিযোগ দায়ের করিলে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে হত্যা করে লাশ ঘুম করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তাই তারা বর্তমানে আবুল কালাম ও তার বাহিনীর হাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে বলে তিনি প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উক্ত মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় বড় ভাই হাবিবুল্লাহকে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ এক সাপ্তাহের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে বলে ভুক্তভোগীর বড় ভাই হাবিবুল্লাহ জানান। উল্লেখিত ঘটনার জের ধরে ১৫ মার্চ হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল কালামকে প্রধান আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নং- ২, কক্সবাজারে একটি মামলা দায়ের করেন। যার সি, আর, মামলা নং- ১০৬/২০২০ইং।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, অচিরেই মানব পাচারের সাথে জড়িত আবুল কালামকে গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে না আসলে এলাকার উঠতি বয়সী স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী ও যুবসমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং হামলার সাথে জড়িতর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উখিয়া থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share this post

scroll to top