উখিয়ায় উগ্রুবাদী রোহিঙ্গাদের তান্ডবে স্থানীয় কৃষকের ধান চাষ বিনিষ্ট

pic-1-2.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

মায়ানমার জান্তা ও নাসাকা বাহিনীর হাতে বর্বর নির্যাতিত নীপিড়ত ও বস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা উগ্রুবাদীদের তান্ডবে স্থানীয় হতদরিদ্র এক কৃষকের চাষাবাদের ধানক্ষেত বিনষ্ট করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভোর রাতে উখিয়ার ঘাট এলাকায় এঘটনাটি ঘটেছে।
সরজমিন ঘটনাস্তল ঘুরে ও বেশ কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার উখিয়ার ঘাট তেলীপাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলমের ছেলে হতদরিদ্র ও দিন মজুর আব্দুস সত্তার উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন উখিয়ার ঘাট বিট অফিস এলাকায় ২০১১-১২ ইং সনের ৩০ হেক্টর স্বল্প মেয়াদী বাগানের উপকার ভোগী হয়। বাংরাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশে^ মানবতার মা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেষা স্থানীয় বস্তহারা হতদরিদ্র জনগোষ্টীরা চাষাবাদ ও ক্ষেত খামার করে যারা জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, তাদের চাষাবাদের উক্ত জায়গা জমি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও উগ্রুবাদী জনগোষ্টীরা জবর দখল করার ফলে স্থানীয় হতদরিদ্র জনগোষ্টীদের বর্তমানে পথে বসার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সত্তার জানান, কুতুপালং ক্যাম্প ৭ এর মাহমুদুল হক হাসানের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী মৌলভী রফিকের নেতৃত্বে এনাম (২২), মৌলভী জুবাইর (৩০), ইউনুছ (২২), আজিজ (২৫), মীর আহম্মদের ছেলে ছানা উল্লাহ (২৫), আরাফাত (২৫), মৌলভী হাফিজ(৩৫), ইকবালের ছেলে মোঃ খলিব (৪০), ইকবালের ছেলে আকতার (৩০), আবছার প্রকাশ বুলবুল (২২), ছৈয়দ নুর মাঝি (৬৫), ইদ্রিস মাঝি (২৫), মীর আহম্মদের দুই ছেলে ছৈয়দ আকবর (৪২) ও জুবাইর (২০) সহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তার চাষাবাদের ধান ক্ষেত বিনষ্ট করে উক্ত জায়গাটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী আরো বলেন, কিছু দিন পূর্বে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা মৌলভী রফিক আমার চাষাবাদের জমিটি ক্রয় করার প্রস্তাব দেয়। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার বাহিনী দিয়ে এ তান্ডব চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করে। উক্ত ঘটনায় আব্দুস সত্তার বাদী হয়ে ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী ও অফিসার ইনচার্জ উখিয়া থানা বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে সে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম আতংকে দিনাতিপাত করছে বলে জানান। তাই সে নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগীর চাষাবাদ জমিতে ভুক্তভোগী নিজেই চাষাবাদ করতে পারবে। কোন এনজিও বা কোন প্রভাবশালী ওই জায়গায় কোন প্রকার স্থাপনা করতে পারবেনা বলে ক্যাম্পের সিআইসিকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীর চাষাবাদ বিনষ্টের সাথে স্থানীয় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

scroll to top