বালুখালী সীমান্তের ইয়াবা বাজার বাপ-বেটার দখলে

pic-u-1.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মহামারি করোনা ভাইরাস রোধে ও মানুষকে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে, তারই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত গডফাদাররা চলমান লকডাউন ও ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচারের দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। নির্মান করে যাচ্ছে নিত্য নতুন আলিশান স্বর্ণকমল। যা দেশের এমপি মন্ত্রীদের পক্ষেও এ ধরনের স্বর্ণকমল নির্মান করা কখনো সম্ভব হবে কিনা তা স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সম্প্রতি বালুখালী মরাগাছতলা এলাকায় পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে ক্যাম্প ভিত্তিক শীর্ষ ইয়াবাকারবারী শওকত আলী নিহত হলেও উক্ত ইয়াবার সাথে জড়িত আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা বালুখালী জুমেরছড়া গ্রামের ইয়াবা রহমত আলীর ছেলে লুৎফুর রহমান প্রকাশ ইয়াবা লুৎফুর। সে ২০১৩ সালে বিপুল পরিমান ইয়াবার চালান নিয়ে রামু থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। ইয়াবা লুৎফুরের সুযোগ্য পিতা রহমত আলী ২০১৮ সালে বিপুল পরিমান ইয়াবার চালান নিয়ে উখিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়, বালুখালী গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে মুহিদুল আলম প্রকাশ ইয়াবা আলম। সে ২৩ মে ২০১৬ সালে ঢাকা গাজীপুর জেলাধীন জয়দেবপুর থানা পুলিশের হাতে কোটি টাকার মূল্যের ইয়াবার চালান নিয়ে আটক হলেও থেমে নেই তাদের ইয়াবা পাচারের দৌড়ঝাপ। বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গডফাদারের নেতৃত্বে পুরো উখিয়ায় অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার সমাজকর্মী লিয়াকত আলী, উসমান গণিসহ আরো অনেকেই বলেন, ইয়াবাকারবারীদের অতীত আর বর্তমান সহায় সম্পক্তির ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। পূর্বাঞ্চলীয় মাদক বিরোধী সংগঠনের নেতা এড. এটি এম রশিদ আহম্মদ বলেন, ইয়াবার মাধ্যমে গজে উঠা অঢেল সহায় সম্পক্তি সরকারি কোষাঘারে নিয়ে যাওয়া হলে ইয়াবাকারবারীদের এ পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলনা। যেহেতু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রনে এক পায়ে খাড়া। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো ইয়াবার বাজারে পরিনত হয়েছে। এদের মাধ্যমে ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ, স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র- ছাত্রী। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্থ হচ্ছে ৮০ শতাংশ পরিবারের কোন না কোন সদস্য। এদের কারনে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিভাবকদের অভিমত।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মরর্জিয়া আক্তার মরজু, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করেন এবং মাদক কারবারী সে যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে তিনি জানান।

Share this post

scroll to top