সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার জামতলী শফি উল্লাহ কাটা ক্যাম্প বাজারের খাস কালেকশনের নামে…থাইংখালীতে সরওয়ারের নেতৃত্বে সরকারি বনভুমিতে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনামানবপাচারকারী জালাল জুতার মালা ও কোদাল দিয়ে মাথার চুল উপড়িয়ে…থাইংখালীতে সরওয়ারের নেতৃত্বে সরকারি বনভুমিতে নির্মিত হচ্ছে স্থাপনাকক্সবাজারে গণবদলির পর নতুন ওসি-এসআইসহ ৩৭ জনকে পোস্টিংকক্সবাজার থেকে শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১৩৪৭ সদস্য বদলিরোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী জাতীয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট, জড়িত শিক্ষক…নাফ নদীতে গোলাগুলি করে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারউখিয়ায় ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটকউখিয়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার ঘটনার এক বছর

টেকনাফ থানার তিন তলায় ‘টর্চার সেল’ বানিয়েছিল ‘ওসির টিম’!

teknaf-thana.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

২০১৯ সালের তিন ডিসেম্বর। কক্সবাজার আদালত পাড়া থেকে আব্দুল জলিল নামে এক সিএনজিচালককে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকে কিছু ব্যক্তি। একইদিনে নিরুদ্দেশ হন হ্নীলা ইউনিয়ন মৌলভী বাজার গ্রামের মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০)। টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদুল জলিলের খোঁজে পাগলপ্রায় হয়ে যায় তার স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগমসহ পুরো পরিবার। স্থানীয় পত্রিকায় ছাপানো হয় নিখোঁজ সংবাদ। তবে খোঁজ মিলছিল না কোনও। বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দফতরে খোঁজ নিয়েছিলেন ছেনুয়ারা বেগম। কিন্তু হদিস মিলছিল না। এর দুই মাস পর এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ থানা থেকে ছাড়া পাওয়া এক স্থানীয় ব্যক্তির কাছে ছেনুয়ারা নিশ্চিত হন তার স্বামী রয়েছে ‘ওসির টিম’-এর কাছে। ওসির নাম প্রদীপ কুমার দাশ।

ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে এরপর যোগাযোগ করলে প্রথমে স্বীকার করেননি তিনি। এরপর আব্দুল জলিলের বড় ভাই আব্দুর রশিদকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার ভাই বড় মাদক ব্যবসায়ী, যদি জীবিত চাও ৩০ লাখ টাকা নিয়ে আসো।’ তবে দাবি করা টাকা জোটাতে পারেনি আটক হওয়া আবদুল জলিলের পরিবার। এরপর গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফের মহেশখালী পাড়া এলাকায় কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন আবদুল জলিলসহ সাদ্দাম হোসেন।

কথিত এই বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের বিষয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাদক উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ইয়াবা কারবারিদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এসময় দুই মাদক কারবারি নিহত হয় ও তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ইয়াবা, দুটি দেশীয় অস্ত্র, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৮ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

তবে এতদিন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বা তার গঠন করা ‘ওসির টিমের’ বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না ভুক্তভোগী পরিবারটির। ওসি প্রদীপ গ্রেফতার হওয়ার পর শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিহতের স্বজনরা এ ঘটনায় বিচারের আকুতি জানিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন। তারা দাবি করেন, টানা আট মাস থানার ভেতরে বানানো টর্চার সেলে আব্দুল জলিলকে আটকে রেখে নির্যাতন করার পর গত ৭ জুলাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতদিন ধরে থানার ‘ওসির টিমের’ হাতে আটক করে রাখা হলেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। তাকে আটকে রাখার কথা স্বীকারও করা হয়নি। গোপনে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। দিতে না পারায় তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হয়েছে। যদি অপরাধীও হয়, তাকে আটকে রেখে বিনা বিচারে এভাবে মেরে ফেলার অধিকার ওসিকে কে দিয়েছে?

Share this post

scroll to top